আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় সতর্ক থাকুন: উ. কোরিয়াকে ইরান

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় দর কষাকষির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। তেহরান বলেছে, উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকার শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যায় না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।

তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি আমরা কোরীয় উপদ্বীপেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চাই। সেইসঙ্গে সেখানকার অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধিও আমাদের কাম্য। এই প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে এমন যেকোনো পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।”

কাসেমি আরো বলেন, “কিন্তু আমেরিকার অতীত আচরণের রেকর্ড বিশেষ করে মি. ট্রাম্পের নাশকতামুলক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে এ শীর্ষ বৈঠক থেকে তেমন কিছু আশা করা যায় না। তিনি একের পর এক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভাঙতে সিদ্ধহস্ত। ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তিনি যেভাবে বেরিয়ে গেছেন তারপর এ শীর্ষ বৈঠকের ফলাফল নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়া যায় না।”

আজ (মঙ্গলবার) আরো পরে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৫০ সাল থেকে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে মারাত্মক শত্রুতা চলে আসছে। দুই শত্রু দেশের নেতাদের মধ্যে আসন্ন বৈঠককে সে কারণে ঐতিহাসিক বলে গণ্য করা হচ্ছে। তবে অনেকেই এ বৈঠকের সফলতা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

 

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্প-কিম
সব জল্পনা-কল্পনা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন। সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলায় হোটেলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এই বৈঠক শুরু হয়। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরার।
বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এ বৈঠক সফল হবে এবং আমাদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি হবে। এতে কোনো সন্দেহ নাই।’
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম বলেন, ‘এই বৈঠকে বসা আমাদের জন্য সহজ ছিল না। অনেক বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত আমরা বৈঠকে বসতে পেরেছি।’
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে বহু প্রতীক্ষিত এ ঐতিহাসিক বৈঠক উপলক্ষে সিঙ্গাপুরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকের মূল বিষয়- যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সংবরণ এবং উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে নিজেদের পূর্ণ নিরাপত্তা।
এই বৈঠককে শান্তির লক্ষ্যে ‘একটি সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকে আশা করা হয়েছে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠক ইতিবাচক হলে উত্তর কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত ক্যাপেলা হোটেলটি মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ভবনেই গড়ে উঠেছে। এই ভবনগুলো সংস্কার করে বানানো হয়েছে হোটেলটি। সেখানে এক সময় ছিল ব্রিটিশ সেনাদের অফিসার্স মেস। মোট ১১২টি রুম ও কয়েকটি ভিলা রয়েছে হোটেলটিতে।
সেন্তোসা দ্বীপটিকে বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে বাছাই করার সবচেয়ে বড় কারণ নিরাপত্তা। সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটিতে চারদিক থেকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা অনেকটাই সহজ।
এখন অত্যন্ত চকচকে আর আলো ঝলমল একটি জায়গা হলেও সেন্তোসা দ্বীপের রয়েছে অন্ধকার এক অতীত। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় রচিত হয়েছে এখানে। সে অধ্যায়ের পাতাজুড়ে হত্যা আর রক্তপাতের কাহিনী।

হাতে হাত মিলিয়ে ইতিহাস রচনা করলেন ট্রাম্প-কিম

হাতে হাত মিলিয়ে ইতিহাস রচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

মঙ্গলবার সকালে দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের ক্যাপেলো হোটেলে হাতে হাত মিলিয়ে ইতিহাস রচনা করেন এই দুই নেতা।

ঐতিহাসিক বৈঠকের শুরুতেই পরস্পর করমর্দন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। কয়েক সেকেন্ডের করমর্দন শেষে কিম জং উনের ডান কাঁধ স্পর্শ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, জন বোল্টন ও জন কেলিকে দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *