ইরানের গ্যাস কিনতে আমেরিকা-ইউরোপের অনুমতি চায় পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ইরান থেকে গ্যাস আমদানির ব্যাপারে মতামত জানার জন্য আমেরিকা ও ইউরোপীয় নেতাদের কাছে চিঠি লেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতায় যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয় সে জন্য পাকিস্তান তার অংশে গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে চায়। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ওই প্রকল্প সম্পন্ন করার পথে প্রধান বাধা। তবে ইরানের কাছ থেকে গ্যাস কেনার ব্যাপারে পাকিস্তান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে তিনি জানান।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের কাছ থেকে গ্যাস কেনার ব্যাপারে মতামত জানতে আমেরিকা ও ইউরোপীয় নেতাদের কাছে চিঠি লেখার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান জানানোর বিষয়টি খুবই বিস্ময়কর। কারণ এ থেকে জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের স্বাধীনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এমন সময় ইরানের কাছ থেকে গ্যাস কেনার ব্যাপারে আমেরিকা ও ইউরোপের অনুমতি নেয়ার কথা বলছেন যখন তিনি সাম্প্রতিক সময়ে এমনকি গত বছর আগস্টে নির্বাচনে জেতার আগেও আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের জন্য সাবেক সরকারগুলোর সমালোচনা করেছিলেন।

ইমরান খানের নির্বাচনী শ্লোগান ছিল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্য কোনো দেশের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হবে। কিন্তু ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার ব্যাপারে আমেরিকা ও ইউরোপীয় নেতাদের অনুমতি চাওয়া কিংবা তাদের মতামত জানতে চেয়ে চিঠি লেখার কথা বলে ইমরান খান মূলত নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই লঙ্ঘন করলেন।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন তেহরিকে ইনসাফ দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইরানের কাছ থেকে গ্যাস কেনা এবং নিজ অংশে গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারে ইউরোপ ও আমেরিকার কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ পাকিস্তান ব্যাপক জ্বালানি ঘাটতির সম্মুখীন এবং প্রধানমন্ত্রীর এ পদক্ষেপের ফলে দেশটির অনেক শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের জনগণ আশা করছে, সরকার আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের কোনো দেশের অনুমতির তোয়াক্কা না করে জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, পিপলস পার্টির প্রধান বেলাওয়াল ভুট্টো যারদারি বলেছেন, আমেরিকার চাপের মুখে ইরানের কাছ থেকে গ্যাস আমদানির প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং জনগণের প্রতিবাদ সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকারের গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণে গড়িমসি ও গ্যাস আমদানির ব্যাপারে পাশ্চাত্যের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় দেশের জনগণের সন্তুষ্টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এমন সময় ইউরোপ ও আমেরিকার কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করছেন যখন দেশটির জনগণ গত দুই দশক ধরে পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেয়া নানা কর্মসূচি বিশেষ করে আফগান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপ থেকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা ফুটে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *