ঈদ হাসি নেই ২১ মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীর পরিবারে

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার উত্তর সাউদপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের জের ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। মাদ্রাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪ শিক্ষক বলেন, বর্তমান সভাপতি ৬ বছর যাবৎ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদে থাকায় পূর্ণরায় না রাখার সিন্ধান্ত নিলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. খাইরুল আলম সরফরাজ আমাদের মাদ্রাসার ২১ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন ও ঈদ বোনাসের বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিচ্ছেন না। তাই আমাদের ২১টি পরিবার ঈদ বোনাস ও বেতন থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে তার কমিটির মেয়াদ আছে ২৪ শে জুন ২০১৮ইং পর্যন্ত। মাদ্রাসার নতুন ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্য ও শিক্ষক কর্মচারীসহ এলাকাবাসী তাকে পূর্ণরায় সভাপতি পদে নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষকরা আরো বলেন, ৬ বছরে ঐ প্রতিষ্ঠানে কোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করতে পারেনি এবং শনিবার বন্ধের দিন ব্যতিত কোন সভা করতে পারেনি ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের কোন খোঁজ খবর নিতেও দেখা যায়নি। তিনি যখই জানতে পারলেন তাকে পূণরায় সভাপতি নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায়, সে বেতন ও ঈদ বোনাস আটক করে রাখেন। এরপর তিনি আমাদের কে বলেন, আমাকে যদি পূনরায় সভাপতি করার লিখিত ডকুমেন্ট দেওয়া হয় তাহলে বেতন ও ঈদ বোনাসের বিলে স্বাক্ষর করিবেন। এই কথা শুনে আমরা সব শিক্ষক ও কর্মচারীরা তার বাসায় গিয়ে সভাপতির হাতে পায়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করে বলেছি আমাদের ছেলে মেয়েদের ঈদের কাপড় চোপড় বাজার-ঘাট কিছুই করতে পারিনি। দয়া করে আমাদের ছেলে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বেতন দিয়ে দিন। আমাদের চোখের পানিতে তার মন গলাতে পারেনি। এরপর নিরুপায় হয়ে সকল শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ও এলাকাবাসীকে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের অভিভাবক বজলুল হক হারুন সাহেবের বাড়িতে ১০ তারিখ শনিবার রাতে যাই ও তার কাছে ঘটনা খুলে বললে তিনি ঘটনার বিস্তারিত শুনে দু:খ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষনিকভাবে সভাপতি কে ফোনে তাদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করে দেওয়ার সুপারিশ করে বলেন, সামনে ঈদ এই রমজান মাসে ছেলে মেয়েদের নিয়ে ঈদের খুশিতে থাকতে পারে তাহার জন্য দিয়ে দিন।
এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলার উত্তর সাউদপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মোবাক্ষের হোসেন বলেন, কৃষি ব্যাংক থেকে ১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ইসলামী ব্যাংকে জমা দেইনি। মাদ্রাসার টয়েলেট নির্মাণে এ টাকা বায় করেছি।
এব্যাপারে রাজাপুর উপজেলার উত্তর সাউদপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. খাইরুল আলম সরফরাজ বলেন, অধ্যক্ষ মো. মোবাক্ষের হোসেন তার কাছে কয়েক মাস পূর্বে এসে মাদ্রাসার নামে জিবি ফান্ডের ১লক্ষ টাকা কৃষি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ইসলামি ব্যাংকে রাখার প্রস্তাব দেয়ায়, আমরা টাকা উত্তোলন করে তার কাছে তুলে দেই। কিন্তু পরে জানতে পারি যে, অধ্যক্ষ সাহেব ১ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি ঐ টাকা ব্যক্তিগত ঋন পরিশোধ করেন। আমরা টাকা জমা না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন কিছু দিন পর ঐ টাকা পরিশোধ করে দিবেন। দীর্ঘ কয়েক মাসেও টাকা জমা না দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিছু দিন পর এ মাদ্রাসায় অন্য একজন সভাপতি হচ্ছেন। তাই আমি দায়িত্ব মুক্ত হতে তাদের বেতনে স্বাক্ষর করিনি। কিন্তু অধ্যক্ষসহ ২জন বাদে অপর শিক্ষকদের বেতনে আমি স্বাক্ষর দিতে চেয়েছিলাম। এমপি সাহেব সোমবার রাতে তার বাসায় বসে সকল শিক্ষকদের বেতনে স্বাক্ষর করে দিতে বলায় আমি সকালে তাদের ডেকেছিলাম। তারা না আসায় তাদের বেতন বহিতে স্বাক্ষর করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *