ক্রিকেট কন্যাদের প্রথম রেস্টুরেন্ট

স্পোর্টস ডেস্ক : মোহাম্মদ আশরাফুল, নাফীস ইকবাল, সাকিব আল হাসানের পর অনেক ছেলে ক্রিকেটারই খুলেছেন নিজেদের রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। তবে এবার নারী দিবসে চমক নিয়ে উদ্বোধন হচ্ছে ক্রিকেট কন্যাদের প্রথম রেস্টুরেন্ট। সাথিরা জাকির জেসি, রুমানা আহমেদ ও শুকতারা রহমান নিয়েছেন এমন সাহসী উদ্যোগ। মিরপুরে শুরু হচ্ছে তাদের ‘টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জ’। নিজেদের অভিষ্যৎ ভাবনা থেকেই ছেলে ক্রিকেটারদের দেখে তাদের এমন এগিয়ে যাওয়ার দারুণ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান তারা।

দেয়ালে দেয়ালে থাকবে আমাদের সাফল্যের চিত্র: জেসি
আসলে আমরা মেয়েরা যারা ক্রিকেট খেলি তাদের চাকরি করার আর সুযোগ থাকে না। খেলা শেষ করে বয়সও থাকে না নতুন করে চাকরির চিন্তা করার। এ দেশে নারী ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখনো সেটি আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ক্রিকেট ছাড়লে কি হবে সেই চিন্তা থাকছেই। তাই ক্রিকেটার ভাইয়াদের দেখেই চিন্তা করেছি এমন একটা রেস্টুরেন্ট করার। ভালো লাগছে শেষ পর্যন্ত সেটি করতে পারছি। এখন আমরা তিনজন আছি। পরে আরো বড় আকারে করবো। সত্যি কথা বলতে এই চিন্তা কিনু্ত আমাদের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই। হ্যাঁ, এই রেস্টুরেন্ট আমরা আমাদের নারী ক্রিকেটের সাফল্যের চিত্র দিয়েই সাজাবো। আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসতো খুব বড় না, তবে এর মধ্যে এশিয়া কাপ জয়, সেই ছবি থাকবে। ব্যাট, বল স্টাম্প থাকবে। আমরা এখন পর্যন্ত যে যে অর্জন করেছি সেই চিত্রগুলো থাকবে দেয়ালে দেয়ালে। ভালো লাগছে এমন কিছু করতে পেরে। এটা শুরু, সামনে আমরা আরো নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়ে আরো বড় করবো এই রেস্টুরেন্টটা।
আমরা যখন ক্রিকেট ছাড়বো আমাদের খুব বেশি কিছু করার থাকবে কি না জানিনা। হয়তো কোচ হবো, কিংবা যদি ম্যানেজার হতে পারি হবো। তবে সবাই যে সেটি হতে পারবে তা নয়। দেখেন এখনো আমাদের কিন্তু নারী ম্যানেজার বা সংগঠক নেই। যে কারণে এমন কিছু ভাবতেই হলো ক্রিকেটের বাইরে।

আমরাও পারি: রুমানা
গেল বছর অনেক খেলা ছিল আমাদের। কিন্তু ২০১৯ দেখেন তেমন কোনো ম্যাচ নেই। ক্রিকেটারদের জীবনটাও এমন- কখনো ভালো তো কখনো মন্দ। এখন আমরা অনেক সুযোগ পাচ্ছি, আমাদের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। কিন্তু সেই তুলনাতে আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কিন্তু বাড়েনি। সাকিব ভাইদের দেখে এই রেস্টুরেন্টের চিন্তা করি আমরা। আমি মনে করি এটি নারী ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। কারণ এখনই ভাবতে হচ্ছে ক্রিকেট ছেড়ে আমরা কি করবো! এখানে ক্রিকেটে নারী সংগঠক বা ম্যানেজার হওয়াও কঠিন। হয়তো সংসার করবো, তার পরও ভাবতে হয় জীবনে ভালো থাকার কথা! সে জন্য অর্থের প্রয়োজন। আমার কাছে মনে হয়েছে ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটা করা সহজ হবে। আবার ভালো মুনাফাও হয়। এই রেস্টুরেন্টের নাম রেখেছি আমরা ‘টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জ’। যা প্রতীক হতে পারে যে ‘আমরাও পারি’। অবশ্য সবার জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এটি আমরা এই নারী দিবসেই শুরু করতে যাচ্ছি। তবে এখন খেলা চলছে আমাদের যে কারণে অনুষ্ঠান করবো একটু পরে।

ভালো লাগছে ওদের দেখে: শুকতারা
আসলে এই রেস্টুরেন্টটা রুমানা ও জেসি আপুর সঙ্গে আমার স্বামী (ইফতেখারুল ইসলাম) শুরু করতে যাচ্ছে। সে কারণে আমিও আছি ওদের সঙ্গে। আসলে রুমানা ও জেসি আপুর এই উদ্যোগ দেখে আমিও ভীষণ খুশি। অবশ্যই এটি নারী ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ভাবনা থেকেই আসছে। আমি মনে করি এতে আমাদের মেয়ে ক্রিকেটাররা আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে। সূত্র: এমজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *