চকবাজারে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ভবনে লাগা ভয়াবহ আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।

এরপর থেকেই চলছে লাশের সন্ধান। একের পর এক ব্যাগ ভর্তি লাশ বের করা আনা হয়। ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা ৭৬ জন হলেও তা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল জুলফিকার বলেন, এক একটি ব্যাগে একাধিক লাশ থাকতে পারে। তিন বলেন ভেতরে আরো অনেক লাশ থাকতে পারে।

বুধবার রাত ১০টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। তবে এখনো বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলছে। ভবনটির ছাদেও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কতজন দগ্ধ হয়েছেন তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। অর্ধশতাধিক দগ্ধ মানুষকে ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ধারণা গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক কর্মীসহ অনেকেই এখানে কাজ করছেন। নগরবাসী, দেশবাসী সবার দোয়া চাচ্ছি, যাতে করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য হলো আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। যারা আহত হয়েছেন তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমরা ঘটনার তদন্ত করব। কেন, কিভাবে আগুন লেগেছে সে সম্পর্কে জানাতে পারব।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আমি বাসায় ছিলাম, আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনে আমার ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাই। এখানের অলিতে গলিতে বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল। প্রায় সবই পুড়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর ৪৩/১ নবাবকাটরায় পাঁচতলা বাড়িতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় হারাতে হয় ১২৩ জনকে। আহত হয় কয়েক শ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *