জনরোষে সরে যেতে হলো অভ্যুত্থানের নেতাকেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জনরোষের মুখে টিকতে পারলেন না সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা আওয়াদ ইবনে আউফ। ৩০ বছর দেশটিতে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে বৃহস্পতিবার ক্ষমতাচ্যুত করে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র একদিন পরে তাকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। তিনিই হয়েছিলেন দেশের সামরিক কাউন্সিলের প্রধান। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাকে প্রেসিডেন্ট বশিরের খুব ঘনিষ্ঠ আখ্যা দিয়ে তীব্র আন্দোলন অব্যাহত রাখে। তারই প্রেক্ষিতে তিনি শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি একই সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। ওই ঘোষণায় তিনি দেশের পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেল রহমান বুরহানের নাম ঘোষণা করেন। নতুন ক্ষমতায় আসা এই ব্যক্তিও একজন শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব।
তবে বার্তা সংস্থা এপি বলছে, সুদানের অন্য জেনারেলদের চেয়ে তার রেকর্ড অনেক ভাল। তিনি বিক্ষোভকারীদের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

সেনাবাহিনী দাবি করছে, দু’বছর ক্ষমতায় থাকতে চায় সেনাবাহিনী। এর মধ্যে নির্বাচন দিয়ে তারা ফিরে যেতে চায় ব্যারাকে। কিন্তু উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ তাতে প্রশমিত হয় নি। কারণ, তারা মনে করে আওয়াদ ইবনে আউফ হলেন প্রেসিডেন্ট বশিরের ঘনিষ্ঠজন। তাই তীব্র আন্দোলন অব্যাহত রাখে জনতা। শুক্রবার তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে। এতে জনতার ঢল নামে। এর প্রেক্ষিতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন আওয়াদ ইবনে আউফ।

দেশটিতে নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যের প্রতিবাদে ডিসেম্বর থেকেই আন্দোলন জমে ওঠে। এর সমাপ্তি ঘটায় সেনাবাহিনী। ক্ষমতা নেন আওয়াদ ইবনে আউফ। দারফুর সংঘাতের সময় তিনি ছিলেন সুদানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করেছে ২০০৭ সালে। তিনি শুক্রবার বিদায় নেয়ার পর খার্তুমে উল্লাস দেখা দিয়েছে। জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েছে। তারা স্লোগান দিচ্ছিল, আবার তাদের পতন হয়েছে।

দারফুর যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ওমর আল বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে দারফুর যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সুদান প্রফেশনাল এসোসিয়েশন। আওয়াদ ইবনে আউফ পদত্যাগ করাকে তারা জনতার জয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

কি ঘটেছে শুক্রবার?
বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ক্ষমতায় আসেন আওয়াদ ইবনে আউফ। বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও জনরোষ প্রশমিত হয় না। তারা মনে করে আওয়াদ ইবনে আউফ হলেন বশিরের কাছের লোক। ফলে তারা কারফিউ ভঙ্গ করে রাজধানী খার্তুমে সেনাবাহিনীর সদর দফতরের বাইরে অবস্থান করতে থাকে।

এরই এক পর্যায়ে শুক্রবার মিলিটারি কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বলেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে চায় না। সুদানের ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে বিক্ষোভকারীদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে। তবে সেনাবাহিনী জনশৃংখলা রক্ষা করবে। কাজে বিঘœ সহ্য করবে না। একই সঙ্গে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বশিরকে তুলে দেয়া হবে না। সংবিধান স্থগিত করে জারি করা হয় তিন মাসের জরুরি অবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *