টুংটাং শব্দে মুখরিত রাজাপুরের কামারপাড়া

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির, ঝালকাঠি থেকে: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শিল্পীরা। দম ফেলবারও যেন সময় পাচ্ছেন না তারা। দিন রাত টুংটাং শব্দে মুখরিত হাটবাজারসহ কামার বাড়িগুলো।
সরজমিনে দেখা যায়, কামার শিল্পীরা রাজাপুরের বাঘরি বাজার হাট, রাজাপুর বাজার, বাইপাস মোড়, লেবুবুনিয়া বাজার, কাঠিপাড়া, পাকাপোল, গালুয়া বাজার, উত্তমপুর, পুটিয়াখালিসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জামাদি তৈরি করছেন।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বটি, চাকু, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছে কামাররা। রাত দিন টানা পরিশ্রম করে এসব জিনিসপত্র তৈরি করছেন তারা। এসব ব্যবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দা, বটি, চাপাতি, চাকুসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করছে কামার শিল্পীরা। সারা বছর এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন তারা। এ মৌসুমে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে থাকেন। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প।
রাজাপুর বাজারের কামার শিল্পী রাজ্জাক কর্মকার জানান, এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে অনেক কাজ করা হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হওয়ার ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে। হয়তোবা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না। তবে কোরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই। কামার শিল্পী কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই কাজ করে গেছেন। সারা বছর তেমন কোনো কাজ না থাকলেও কোরবানীর সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়।
এ ব্যাপারে রাজাপুর বাইপাস মোড়ের দিপক কর্মকার বলেন, এই পেশায় আমরা যারা আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি হলেও সে অনুযায়ী আমরা ন্যাযমূল্য পাইনা। এই পেশায় থেকে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। সরকারি কোনো আর্থিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এ শিল্প একদিন হারিয়ে যাবে।
কামার শিল্পীরা জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কৃষি কাজে ব্যবহার করা দেশীয় তৈরি সব পুরনো উপকরণও আর তেমন ব্যবহার করা হচ্ছে না। প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিতে লোহার তৈরি পুরনো সব উপকরণের গ্রহণযোগ্যতা এখন আর নেই বললেই চলে। কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতে জড়িত কামার শিল্পীদের প্রায় সারা বছর কাজ নেই বললেই চলে। আর এতে করে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে তাদের চলতে হয়। কিন্তু প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় ব্যস্ত সময় পার করেন কামার শিল্পীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *