ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি সুশিক্ষার জন্য; গুজবের জন্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

অনলা্ইন ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও গুজবে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি সুশিক্ষার জন্য। অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা, গুজব- এসবের জন্য নয়। কাজেই এর থেকে বিরত থাকতে হবে। রোববার রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বিমান বন্দর সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ তো আমি করে দিয়েছি। সকলের হাতে এখন মোবাইল ফোন। আধুনিক প্রযুক্তি ফোর-জি এসে গেছে। একটা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফেসবুক করা যায়, ইউটিউব দেখা যায়, সেটা আমরা করে দিয়েছি। এই যে প্রযুক্তির ব্যবহার, এর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে, গুজব ছড়িয়ে, একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা; এমনকি অনেক বয়স্ক লোক, এমন এমন লোক আছে- যাদের ভালো কাজের জন্য এক সময় পুরস্কার দিয়েছি, অথচ তারাই এ ধরনের গুজব ছড়াতে শুরু করল। আর যাই হোক, এগুলোতো কখনো সহ্য করা যায় না। কেউ চট করে গুজবে কান দেবেন না।

বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো দিনই ক্ষমা করা যায় না, এটা ক্ষমার অযোগ্য। কারণ ওই বাস ড্রাইভার যেভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়িটা চালাচ্ছিল, ছেলে-মেয়েদের উপর দিয়ে বাস উঠিয়ে দিল। এদের আমরা কখনোই ক্ষমা করব না। এই দুর্ঘটনায় যারা জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি অবশ্যই হবে।

রোববার সকালে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আন্ডারপাস প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফোকাস বাংলা
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া একটি বাসের চাপায় রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম (মিম) ও আবদুল করিম (রাজীব) নিহত হন। ওই ঘটনার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা এক সপ্তাহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে কার্যত রাজধানী অচল হয়ে পড়ে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ওই আন্দোলনের জেরে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একেকটি ঘটনা মানুষের চোখ খুলে দেয়। তারপরও দেখছি, আমাদের অনেকে এখনো অন্ধ। আমরা সরকারে ফিরে দেখেছি, বিআরটিসি বাস বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ছিল, আমরা চালু রেখেছি। ড্রাইভারদের ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক, ড্রাইভাররা ট্রেইনিংও করে না, হেলপারের হাতে গাড়ি ছেড়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনার পর যেভাবে শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছিল, সাথে সাথে পুলিশ, বিজিবি, র্যা ব, সবাইকে বলেছি ধৈর্য্য ধরতে। আমরা দেখেছি, তোমরা অস্থির হয়ে যাচ্ছ, তবুও ধৈর্য্য ধরতে বলেছি। আমরা দেখেছি, আামদের ছেলে-মেয়েরা রাস্তায়, তাদের যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

আন্দোলনের তৃতীয় দিনের তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্ট করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন দেখলাম ব্যাগের ভেতর থেকে চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল বের হচ্ছে, পাথর বের হচ্ছে… তখন আমরা চিন্তিত হয়ে গেলাম। আমি তখনই আহ্বান করলাম, তোমরা ঘরে ফিরে যাও। অভিভাবক-শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানালাম- তৃতীয়পক্ষ ঢুকে পড়েছে, তাদের ঘরে ফিরিয়ে নেন। সময় মতো তারা শিক্ষাঙ্গনে ফিরে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মার খেয়েছে, অপমাণিত হয়েছে, তাদের মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কিছু করেনি। কিন্তু দেখা গেল- এসব ঘটনায় জড়িতরা ছাত্র না, ছাত্র নামধারী কিছু লোক। দর্জির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, প্রচুর পরিমাণে স্কুল ড্রেস তৈরি হচ্ছে।

সবাইকে রাস্তা পারাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তা পারাপার করার জন্য ডানে বা বামে তাকাতে হবে। আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ কিংবা যেখানে জেব্রা ক্রসিং সেখান দিয়ে রাস্তা পার হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠা-নামা করা যাবে না। যারা সেটা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, শাস্তি দিতে হবে, লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। আর ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেশি মানুষের চলাফেরা যেখানে- প্রতিটি জায়গায় আন্ডারপাস, ফুটওভার ব্রিজ করে দিতে হবে। পর্যাপ্ত লাইট ও গোপনভাবে সিসি ক্যামেরা রাখতে হবে ও তা মনিটরিং করতে হবে। আর ছোট্ট সোনামণিদের বলব, ট্রাফিক রুলস মেনে চলতে হবে, মন দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। এত কষ্ট করছি, তোমাদের ভবিষ্যত নির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *