ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এদিন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করবেন।

বাণিজ্যমেলার ২৪তম এ আয়োজনে দেশের কয়েকশ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২২ দেশের ৫২ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেলা প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সংবাদ সম্মেলনে মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম।

এসময় মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিং করাই বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি পণ্য বহুমুখীকরণ, রফতানি বাড়ানোও উদ্দেশ্য। এর বাইরে মেলার মাধ্যমে মাসব্যাপী মানুষের বিনোদনেরও ব্যবস্থা হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ।

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা আছে তার। বিশেষ করে ২০২১ সালে রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, কারণ বিভিন্ন খাতে রফতানি আয় বাড়ছে। চামড়া খাতে কিছু সমস্যা আছে, যেটা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নেবে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কার্যকর করা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক ভিত্তিতে ব্যবসা বাণিজ্যে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পোশাক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু অসুবিধা হয়। অনেকে আপত্তি করেন। অনেক ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার হয়। আশা করা যায় সকল পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগে এ খাতের শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান হবে।

মেলা প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবারের মেলা শুরু হতে দেরিতে হলো। মেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মান ও প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করা হবে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, মেলার মাধ্যমে দেশীয় কোম্পানির ব্র্যান্ডগুলো পরিচিতি পেয়েছে।

বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও মেলা প্রাঙ্গণে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। বড় প্যাভেলিয়ন ও স্টলগুলোর সাজসজ্জা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ জন্য আরও এক-দু’দিন সময় লাগবে।

এবারের মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও স্টল মিলিয়ে মোট ৫৭৪ স্টল রয়েছে। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি। মিনিপ্যাভিলিয়ন ৮৩টি। এছাড়া ৩০টি ফুড স্টল ও ২টি রেস্তোরাঁ রয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শনার্থীদের প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।

প্রথমবারের মত বাণিজ্য মেলার টিকিট অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অনলাইনে কিনতে টিকিটের মূল্যের অতিরিক্ত ২ টাকা দিতে হবে। মোবাইল অ্যাপ, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টানেট ব্যাংকিং এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে মেলার প্রবেশ টিকিট কেনা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রথম অনলাইনে টিকিট কাটেন। মেলা প্রাঙ্গনে রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।

প্রতিবছর মেলায় দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিপ পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, গাড়ি, স্যানিটারি পণ্য, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, মেলামাইন, প্লাস্টিক, হারবাল, টয়লেট্রিজ পণ্য নিয়ে হাজির হয়। খুচরো বিক্রির পাশাপাশি মেলা থেকে বিপুল পরিমাণে রফতানি আদেশও আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *