তুমি কোনো নেক আমল করেছ কি

আবদুল হালিম খান : হজরত ওকবাহ ইবনে আমর (র.) হুমাইফাহ (র.)-কে বললেন, আপনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করেন না কেন?

তিনি বললেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন দাজ্জাল বের হবে, তখন তার সঙ্গে পানি ও আগুন থাকবে। তারপর মানুষ যা আগুন সৃদশ প্রত্যক্ষ করবে তা হবে ঠান্ডা পানি। আর মানুষ যা ঠান্ডা ভাববে, তা হবে দগ্ধকারী আগুন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দাজ্জালের দেখা পাবে, সে অবশ্যই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যা আগুনের মতো দেখবে। কেননা তা প্রকৃতপক্ষে শীতল ও সুস্বাদু পানি হবে।

হুমাইফাহ (র.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববতী যুগে এক ব্যক্তি ছিল। তার জান কবজ করার জন্য তার নিকট মৃত্যুর ফেরেশতা আগমন করলেন, তারপর (সে মারা গেল, কবরে) তাকে প্রশ্ন করা হলো, তুমি কোনো নেক আমল করেছ কি? সে বলল, আমার জানা নেই। তাকে বলা হলো, ভেবে দেখো, সে বলল, এ বিষয়টি ছাড়া আমার কোনোকিছুই জানা নেই যে, দুনিয়ায় আমি মানুষের সঙ্গে লেনদেন করতাম। (অর্থাৎ কর্জ দিতাম) এবং আদায়ে তাদের তাগাদা করতাম। দিতে না পারলে আমি সচ্ছল ব্যক্তিকে সময় প্রদান করতাম এবং দুস্থ ও অসচ্ছল ব্যক্তিকে মাফ করে দিতাম। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করালেন।

হুমাইফাহ (র.) আরও বললেন, এক ব্যক্তির মৃত্যু মুহূর্ত এসে হাজির হলো, যখন সে জীবন হতে একেবারে নিরাশ হয়ে গেল, তখন সে তার পরিবার পরিজনকে অছিয়ত করল, আমি যখন মৃত্যুবরণ করব, তখন অধিক পরিমাণে কাষ্ঠ স্তূপ করে তাতে আগুন প্রজ্বালিত করে দেবে (এবং আমাকে তাতে নিক্ষেপ করবে)। যখন আগুন আমার গোশত পুড়ে ভস্ম করে দেবে আর হাড্ডি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, তারপর হাড্ডিসমূহ পুড়ে কয়লা হয়ে বের হয়ে আসবে তখন তা নিয়ে চূর্ণ করে ফেলবে। তারপর যেদিন দেখবে প্রবল হাওয়া বইছে, সেদিন তা নদীর দিকে নিক্ষেপ করবে।

তারপর পরিজনরা তাই করল। অতঃপর আল্লাহ তার দেহ (ভস্ম) পুনরায় একত্রিত ও সংগঠিত করলেন এবং তাকে জিগ্যেস করলেন, তুমি এরূপ করলে কেন? সে বলল, আপনার ভয়ে। তখন আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন। ওকবাহ ইবেন আমর (র.) বলেন, আমি হুজাইফাহ (র.)-কে বলতে শুনেছি, ওই লোকটি কাফন চোর ছিল। (সহিহ বোখারি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *