দিনাজপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫শ একর জমির ফসল নষ্ট

শাহ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে; দিনাজপুরে খানসামা ও বীরগঞ্জে চারটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ৫শ একর জমির উঠতি ইরি-বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু ধান নয়, আম, লিচু, কলা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন গাছ বিনষ্ট হয়েছে। সেই সাথে বিষাক্ত ধোয়ায় মারা গেছে
প্রায় খামারের ৩ শতাধিক মুরগি। এতে কষ্টার্জিত ধান আর ফল গাছ এবং মুরগি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠেছে এলাকার পরিবেশ।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানিয়েছেন, ঋণ করে ইরি-বোরো ধান
লাগিয়েছিলেন তারা। উঠতি ধান নষ্ট হওয়ায় তারা মহাবিপাকে পড়েছেন। সামনে ঈদ ও রোজায় কিভাবে চলবে, কিভাবে মহাজনের টাকা পরিশোধ
করবে এ নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই তাদের। ইট ভাটার মালিকরা কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিলেও কৃষকেরা আদৌ ক্ষতিপূরণ পাবে কি না এই
নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।

এদিকে দু’উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্থ ধানের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও
আশ্বাস দিয়েছেন।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৫নং ভাবকি ইউনিয়নের কুমড়িয়া গ্রামে এসএইচএস ব্রিক্স ও টু স্টার ব্রিক্স নামে দু’টি ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় প্রায় ৩শ একর জমির ইরি-বোরো উঠতি ধান পাতান হয়ে সম্পূর্ণ বিনষ্ট
হয়ে গেছে।

এলাকবাসীর অভিযোগ, ইটভাটা দু’টিতে খড়ি, কয়লার বর্জ্য আর টায়ার পুড়ানোর কারণে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।

এলাকার তসলিম উদ্দিন জানান, বিষাক্ত ধোয়ায় পুইশাক, কলা গাছ সহ বাঁশ মরে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আনোয়ার জানান, এনজিও’র কাছ থেকে
অধিক লাভে টাকা নিয়ে ইরি-বোরো ধান লাগিয়েছি। কিন্তু ধান নষ্ট হওয়ায় এখন সামনের দিন কিভাবে যাবে,
কিভাবে সংসার চলবে এনিয়ে চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না। অপর কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, হাঁস-মুরগির ফলস ও গাছ বিনষ্টের পাশাপাশি শ্বাস কষ্ট, হাঁপানি সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ।
ভাবকি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় কৃষকদের সাথে থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কৃষকদের ক্ষতিপূরণ উঠিয়ে দিতে ইউএনওর সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি
বলেন, শতাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের ক্ষতির অর্থ না পেলে আদালতের আশ্রয় নিবেন।

এদিকে খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে তালিকা প্রস্তুত করার নিদের্শ দিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তর গ্রামের মধ্যে কিভাবে ইটভাটার ছাড়পত্র দিল এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পক্ষ থেকে পুড়ে যাওয়া ফসলে সাদাপানি ও ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করার পাশাপাশি ইট ভাটার গ্যাস যাতে অন্যান্য ফসলের ক্ষতি
করতে না পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছে।

আরডিএফ ইট ভাটার ম্যানেজার মো. আবদুল মান্নান জানান, গত বছর ইটভাটার কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছিল, কিন্তু ভাটা মালিক প্রত্যেক কৃষকে ক্ষতিপুরণ প্রদান করেছেন। তবে এবার কি কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *