দিনাজপুরে শীতের পিঠা ব্যবসা জমজমাট

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জেলা দিনাজপুরে শীতের তীব্রতাকে হার মানিয়েছে শীতের পিঠা। প্রচন্ড শীতে জবুথবু মানুষগুলো শীতকে উপেক্ষা করে শীতের পিঠা খেতে ছুটছে দোকান-রেস্তোরাঁয়।

নতুন চালের ভাপা আর চিতোই পিঠার সাথে রান্না করা হাঁস-কবুতর মাংসও বিক্রি হচ্ছে বেশ। ভোক্তার স্বাদের সাথে লাভবান হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

বারো মাসে তেরো পার্বণের এই বাংলাদেশে এখন শীতকাল। একেক পার্বণকে ঘিরে যেমন নানান আয়োজন করা হয়, তেমনি বাঙালির ঘরে ঘরে এ শীতের কুয়াশা ভেজা সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা আর পুলির আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যগতভাবেই। শীতের এই পিঠে উৎসবকে ঘিরে শহরের চিত্রটাও ভিন্ন।

নাগরিক ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক সভ্যতার কারণে এখন আর যেমন বারো মাসে তেরো পার্বণ হয় না, তেমনি ইচ্ছে থাকলেও এখন আর মানুষ ঘরে বানানো পিঠা খেতে পারছে না। আর শহরবাসীর এই শীতকালীন রসনা বিলাসে তাই রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে ওঠে বাহারি পিঠার পসরা।

দোকানীরা পিঠা বানিয়ে স্বাদ মিটায় শহরের মানুষের। ধানের জেলা দিনাজপুরের অলিতে গলিতে, মোড়ে মোড়ে এখন জমে উঠেছে শীতের পিঠার দোকান। অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে তাই অনেককেই দেখা যায় পিঠা খেতে। আর শহরবাসীর রসনার তৃপ্তি মেটাতে গিয়ে একশ্রেণির মানুষের উপার্জন হচ্ছে এখান থেকে। যা তাদের জীবনযাপনে সাহায্য করে। শুধু যে কর্মজীবী মানুষই এই পিঠা খেয়ে থাকেন, তা কিন্তু নয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তার ধারের পিঠার দোকানের উপর নিভর্রশীল হয়ে উঠছে দিনকে দিন। তাইতো গাড়ি থামিয়ে রাস্তা থেকে ভাপা কিংবা চিতই পিঠা কিনতে দেখা যায় অনেককে।

আবার কেউ কেউ কর্মস্থল শেষ করে ফিরতি পথে পরিবারের সদস্যদের জন্যও পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ভাঁপা (ভাকা) পিঠা, তেলের (অন্দশা) পিঠা, নুন (নুনিয়া) পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, চিতই (চিতুয়া), পিঠা, পানি পিঠা সহ নানান বাহারী পিঠা উল্লেখযোগ্য।

দিনাজপুর শহরের মালদহপট্রি সাধনার মোড় সংলগ্ন দোকানে আসা পিঠা ক্রেতা মজিবর রহমান জানান, তার স্ত্রী শারমিন বাজারের পিঠা খেতে ভালোবাসেন। তাই তিনি ভাপা পিঠা প্রায়ই কেনেন। তাছাড়া বাড়িতে এখন পিঠা তৈরি করা সম্ভব হয় না। পথের ধারের পিঠাই ভরসা।

১৯ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মজিবর। তিনি জানান, নারিকেল কুরি ও খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা। দামও হাতের নাগালেই। ভাপা পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন ২ শতাধিক পিঠা বিক্রি হয় তার। দিনে লাভ হয় প্রায় ৩শত টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *