দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক : ভুয়া জন্মদিন উদযাপন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহসান হাবিব ও খুরশেদ আলম এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলমের আদালতে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলা আর ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলার জামিনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন শুনানি করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পৃথক দুই আদালত জামিনের বিষয়ে আদেশের জন্য ৫ জুলাই দিন ধার্য করে দেন। গত ১৪ জুন মামলা দুটিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জামিনের আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ওসিকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে ১৯ ও ২২ আগস্ট দুই জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীর ৫টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি ৫টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন।

 

নড়াইলের মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর
এর আগে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নড়াইলের আদালতে দায়েরকৃত মানহানি মামলায় আবারও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
এর আগে ৩০ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিনের আবেদন করলে বিচারক শেখ আব্দুল আহাদ জামিন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন ৫ জুন।
অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, মামলাটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি উল্লেখ করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। নড়াইল আদালত এর আগে আরও একবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার চাঁপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নড়াইল আদালতে মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে ওই বছরের ২৫ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন একই আদালত।
মামলার বিবরণে আরো জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ না করে তাকে ইঙ্গিত করে কটূক্তি করেন খালেদা জিয়া। তার এ বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে একটি পত্রিকায় এ খবরটি পড়ে ক্ষুদ্ধ হন রায়হান ফারুকী ইমাম। এরপর ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে নড়াইলের আদালতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরো একটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে একইদিন (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামেও মানহানি মামলা দায়ের করা হয়। এ দু’টি মামলা দায়ের করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কালিয়ার শেখ আশিক বিল্লাহ।

Check Also

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ৩১ জুলাই

অনলাইন ডেস্ক : ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে করা পৃথক মানহানির দুই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *