ন্যান্সি ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা

বিনোদন ডেস্ক : কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও তার ছোট ভাই শাহরিয়ার আমান সানির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সানির স্ত্রী সামিউন্নাহার শানু নেত্রকোনা মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের সাতপাই পূর্বধলা রোডের ন্যান্সি’র বাসা থেকে সানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন খান জানান, সানির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শানু বাদী হয়ে যৌতুকের জন্য হত্যার চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় ন্যান্সি ও তার স্বামী নাদিমুজ্জামান যায়েদের বিরুদ্ধে নির্যাতনে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় সানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার বাদী সামিউন্নাহার শানু জানান, ২০১৫ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজে পড়ার সময় সানির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরই সানি বেকারত্বের কারণ দেখিয়ে বোন ন্যান্সি ও বোন জামাই যায়েদের উস্কানিতে বিভিন্ন সময় শানুর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে এনে দিতে বাধ্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট রাতে তার কাছে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সানি। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সানি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেন। পরে মারধরের এক পর্যায়ে শানুকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালান। এ সময় শানুর চিৎকার শুনে পাশের ঘরে থাকা সানির বন্ধুরা এসে তাকে রক্ষা করেন।
শানু জানান, বিষয়টি তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় সানি তাকে তালাক দেওয়ারও হুমকি দেন। পরে যৌতুকের দাবি ও স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ন্যান্সি জানান, আমাকে কেন মামলায় জড়ানো হলো? শুধু আমাকে না, সঙ্গে আমার স্বামীকেও জড়ানো হয়েছে। এর মানে কী! আমার ভাই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে, তা তো আমার জানার কথা না। আমি থাকি ময়মনসিংহ আর ভাই নেত্রকোনায়। হঠাৎ শুক্রবার রাতে জানতে পারলাম, আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঢাকায় অবস্থানরত ন্যান্সি আরো জানান, গত ২৭ আগস্ট সানি তাঁর স্ত্রী সামিউন্নাহার শানুকে তালাক দিয়েছেন। এই তালাকের কাগজ এরই মধ্যে শানুর হাতে পৌঁছেছে। এদিকে ন্যান্সি জানতে পেরেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য সানিকে চাপ দিচ্ছেন তাঁর স্ত্রী সামিউন্নাহার শানু। কিন্তু স্ত্রীকে সম্পত্তি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানান সানি। এরপর তা নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের কলহ হয়েছে। এমনকি শানু তার ভাইয়ের বন্ধুদের দিয়েও সানির ওপর হামলা করিয়েছেন, তাকে মেরেছেন, ভয় দেখিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সানি তার স্ত্রীকে তালাক দেন। ন্যান্সি দাবি করেন, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে ন্যান্সি বা তার স্বামীর সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করেননি সানি।
ন্যান্সি বলেন, ‘যতটুকু বুঝতে পারছি, যেহেতু আমাকে দেশের সবাই চেনেন, জানেন, আমার একটি পরিচিতি আছে, তাই আমাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমাকে জড়ানোর ফলে তারা এখন দেশের সব সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে। যেহেতু সব সংবাদমাধ্যমে খবর হচ্ছে, ফলে প্রশাসনও ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আর আরেকটি ব্যাপার বেশ বুঝতে পারছি, আমাকে দেশের সবার সামনে ছোট করার জন্য, আমার ইমেজের ক্ষতি করার জন্য তারা আমাকে এই মামলায় আসামি করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *