পুরনো ব্যাংক খাত ডুবছে, তবুও নতুন আসছে

বিশেষ প্রতিবেদক : আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে ডুবতে থাকা ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক বেকাদায়, ঠিক সেই সময়ই আরও তিনটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যাংক অনুমোদন না দেওয়ার পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে।
দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে যে অর্ধশতাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক আছে তাকেই চাহিদার তুলনায় বেশি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এই অবস্থায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন কতটুকু প্রয়োজনীয় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তাদের।
সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে নতুন আরও তিনটি ব্যাংক অনুমোদনের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৩ সালে নতুন ৬টি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার সময় মোট ৯টি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ভুল করে ৩টি ব্যাংক তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। তাই বাদ যাওয়া এই তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দিতে হবে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই চিঠির জবাবে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আর এই অবস্থায় নতুন ব্যাংক অনুমোদন দিলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত সোমবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে আরও তিনটি নতুন ব্যাংক আসার কথা জানান। কিন্তু তিনি নতুন ব্যাংকের অনুমোদনের কথা এমন দিনে বললেন যেদিন নতুন অনুমোদন পাওয়া ফারমার্স ব্যাংকটির হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার বেসরকারি খাতের ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ঋণ কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনার দায়ে পদত্যাগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মাহাবুবুল হক চিশতীকেও পদ ছাড়তে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে যখন ব্যাপক সমালোচনা- তখন তিনটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অর্থনীতিবিদের। অধিকাংশ ব্যাংকারও মনে করেন বাংলাদেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অর্ধশত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় বেশি। পিকেএসফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজামান আহমদ বলেন, নদী ও ভ‚মি দখলের মতো এখন দেশের ব্যাংক খাতেও দখলদারিত্ব চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এর আগে যখন ৯টি ব্যাংক দেওয়া হয়েছিল তখন আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার সেখান থেকে আর ব্যাংক দেওয়া ঠিক হবে না। এই ৬টি ব্যাংকের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক রয়েছে। আবার এনআরবি ব্যাংকসহ সমস্যাযুক্ত কিছু ব্যাংক আছে। এই রকম একটা পরিস্থিতিতে আবারো তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়াটা তিনি যুক্তিযুক্ত মনে করেন না।
তিনি বলেন, শুধু তিনি না, তারা যখন, ব্যাংকিং খ্যাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কথা বলেন তখন সকলেই একমত যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের খুব খারাপ অবস্থা। তবে এতে করে ব্যাংকের গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না বলে তিনি মনে করছেন।
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই অঙ্কের কোঠা অতিক্রম করায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিআইবিএম মহাপরিচালক অধ্যাপক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতের আইন সংশোধনের একটি বিল সংসদীয় কমিটি চ‚ড়ান্ত করেছে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হচ্ছে, যে কোন বেসরকারি ব্যাংকে একই পরিবার থেকে চারজন সদস্য পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন।
আর বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনে এ ধরনের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে লুটপাট এবং চরম অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি করতে পারে।
খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, স্বাধীনতার আগে ২২ পরিবার নামে পরিচিত ছিল কতিপয় ধনী, যাদের কাছে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ সম্পদ কুক্ষিগত ছিল এবং তারা প্রত্যেকে ব্যাংকের মালিক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালিরা সে ২২ পরিবারের বিরোধিতা করেছিল।

Check Also

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নালিশ করা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে …

আলাদিনের দৈত্য জাহিদ

বিনোদন প্রতিবেদক : ‘হাঁটতে হাঁটতে মরুভূমিতে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন সিয়াম আহমেদ। পানির খোঁজ করতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *