বৈঠকের আগ মুহূর্তেও হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা

বৈঠকের আগ মুহূর্তেও হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পোম্পেও বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমেরিকা পিয়ংইয়ংয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে না।

পোম্পেও আজ (সোমবার) সিঙ্গাপুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, “পরিপূর্ণ, যাচাইযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ হতে হবে বৈঠকের ফলাফল এবং আমেরিকা শুধুমাত্র এমন ফলাফলই মেনে নেবে।” তিনি পরিষ্কার করে বলেন, “যদি কূটনীঅতি সঠিক পথে না এগোয় তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হবে।”

আগামীকাল সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগ মুহূর্তে মার্কিন পরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুমকি দিলেন।

বৈঠকের জন্য এরইমধ্যে দু নেতা সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন। ১৯৫০ সাল থেকে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে মারাত্মক শত্রুতা চলে আসছে। দুই শত্রুদেশের নেতাদের মধ্যে আসন্ন বৈঠককে সে কারণে ঐতিহাসিক বলে গণ্য করা হচ্ছে। তবে অনেকেই আগামীকালের বৈঠকের সফলতা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

 

যা বললেন ট্রাম্প ও কিম

সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলায় হোটেলে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন। দেশটির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এই বৈঠক শুরু হয়।

উত্তর কোরিয়ার নেতা ও কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টর মধ্যে এটি প্রথম বৈঠক। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য- ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির একটা সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা।

দুই নেতার একান্ত বৈঠক শেষে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এখন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলছে। পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলছেন ট্রাম্প ও কিম।

এ বৈঠকের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা কথা বলেছেন। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, অত্যন্ত গঠনমূলক ও খুবই সফল একটি আলোচনা সম্পন্ন করতে পারবো এবং আমাদের মধ্যে চমৎকার সুসম্পর্ক তৈরি হবে। এটি আমার জন্য সম্মানের।

আর কিম জং-আন বলেন, এখানে আসা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমাদের অতীতের বিশ্বাস ও ধ্যানধারণা এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সেসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়েই আমরা আজ এ পর্যন্ত এসেছি।

দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কিমের সঙ্গে তার শীর্ষ পরামর্শকেরা উপস্থিত আছেন। রয়েছেন পিয়ংইয়ংয়ের শীর্ষ কূটনীতিক কিম ওং কোল, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ওং হো, কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রি সু ওং।

আর ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা, সিএনএন।

 

ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচার’ বললেন টিভি উপস্থাপক
নিজের সবচেয়ে প্রিয় ও পছন্দের টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের খবরেই স্বৈরচার শব্দটি শুনতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

রোববার এই অঘটনের পর অবশ্য ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে ফক্স নিউজ। তবে তাতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বন্ধ হয়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠককে কেন্দ্র করে।

তাদের আজকের চলমান বৈঠকের দিকে চোখ সারা বিশ্বের, ফক্স নিউজের নানা আয়োজনেও ঘুরেফিরে আসছিল তা। এর মধ্যেই ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ড অনুষ্ঠানে বিপত্তি ঘটিয়ে বসেন উপস্থাপক অ্যাবি হান্টসম্যান।

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ট্রাম্প যখন সিঙ্গাপুরে বিমান থেকে নামছিলেন, তখন তা বর্ণনা দিতে গিয়ে হান্টসম্যান বলে বসেন, দুই স্বৈরাচারের’ বৈঠক হতে যাচ্ছে।

কমিউনিস্ট রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার শাসক উনকে স্বৈরশাসক হিসেবেই দেখা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে।

কিন্তু তার সঙ্গে দেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও যে হান্টসম্যান স্বৈরশাসক বলে ফেলেছেন, সেটা অনুষ্ঠানের অতিথি হোয়াইট হাউজের সাবেক পরিচালক অ্যান্টনি ষ্কারামুচ্চও ধরতে পারেননি বলে ডেইলি মেইল জানিয়েছেন।

তবে অ্যাবি হান্টসম্যান তার ভুলের বিষয়টি ধরতে পারেন কিছুক্ষণ পর, তখন তিনি দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

অ্যাবির বাবা জন হান্টসম্যান বর্তমানে রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *