ভারত নয়, দেশের জনগণ সুযোগ দেবে বিএনপিকে: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপিকে ভারত সুযোগ দেবে না— প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তার বক্তব্যে এটা বোঝা যায়— বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের চাবিকাঠি ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ। কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। বিএনপিকে সুযোগও দেবে এই জনগণ। জনগণকে পাশ কাটিয়ে এদেশে আর কোনো ষড়যন্ত্রমূলক ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচন তারা হতে দেবে না বলে জানান রিজভী।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং বিএনপি হচ্ছে চীন ও পাকিস্তানপন্থী— এইচটি ইমামের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এটি যেন মোড়লের কাছে নিজের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করা।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা বিবেক, আত্মমর্যাদা, জাতীয়তাবাদী অহঙ্কার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অপমানিত করে দিল্লির দরবারে করুণা ভিক্ষা করছেন। এমন ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন যা বাংলাদেশের জন্য বিরল ঘটনা।’

খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড কারলাইলের ভারতের ভিসার বিষয়ে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নয়া দিল্লির একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড কারলাইলকে ভারতে ঢোকার অনুমতি না দিতে জোরালো সুপারিশ পাঠিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন।’

এ ঘটনাকে ‘অদ্ভুত ব্যাপার’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যদি ঢাকাস্থ হাইকমিশনের জোরালো সুপারিশের কারণে লর্ড কারলাইকে ভিসা দেওয়া না হয় তাহলে এটা প্রমাণ হবে যে, খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা কারাদণ্ড দিতে এই হাইকমিশনের নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে। তাদের (ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন) এরকম ভূমিকা দুঃখজনক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আগ্রাসী হস্তক্ষেপ বলে তারা মনে করছেন।’

রিজভী অভিযোগে করেন, ‘বাংলাদেশ একটি ভোটারবিহীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ঔপনিবেশিক শাসকদের ন্যায়, যেন তারা বাংলাদেশে তাদের প্রতিভূদের টিকিয়ে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন ও সার্বভৌমত্ব এখন অতি দুর্বল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *