মানুষের মতো নিজেরাও নাম ব্যবহার করে ডলফিন!

ফার্স্ট নিউজ ডেস্ক : মানুষের সাথে যদি কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য থাকে, তাহলে সেই প্রাণী মনে হয় ডলফিন। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, সামাজিক সেতুবন্ধনের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক এ স্তন্যপায়ী প্রাণী তাদের মধ্যে কে শত্রæ আর কে মিত্র তা সনাক্ত করতে নিজেরা স্বতন্ত্র নাম ব্যবহার করে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার শার্ক বে-তে গবেষণা চালিয়ে একদল গবেষক এ তথ্য জানিয়েছেন। পানির নিচে মাইক্রোফোন রেখে ডলফিনের বিভিন্ন সংকেত পর্যালোচনা করে তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গবেষণার জন্য গবেষকরা ১৭টি বটল নোজ ডলফিনের (নাক দেখতে বোতলের মতো বলে এদের নামই হলো বটলনোজ ডলফিন) রেকর্ড সংগ্রহ করেন। এ শ্রেণির ডলফিন নিজেদের মধ্যে জোট বাধতে বেশ পরিচিত।
টিয়া, বাদুর, হাতি এমনকি বনমানুষ নিজেরা এক ধরনের শব্দ তৈরি করতে সক্ষম যা তারা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। গবেষণায় বলা হচ্ছেÑ ডলফিনও শিস ধ্বনি সংকেত ব্যবহার করে নিজেরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। স্টেফাইন কিংয়ের নেতৃত্বে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক দলটি বলছে, ডলফিনের এ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটি সামুদ্রিক অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে বিরল। বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীরা চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়াকে জানান, ডলফিনের দুটি দল যখন মুখোমুখি হয়, তখন তারা শিস দিয়ে থাকে। এ শিস ধ্বনির সাহায্যে তারা জানতে পারে কে উপস্থিত হলো আর কে হলো না।
জীববিজ্ঞানীরা বলেছেন, ডলফিন অন্য সামুদ্রিক প্রাণীর যোগাযোগের বিশেষ শব্দ বা সংকেত নকল করতে পারে। আর তারা এটি করে থাকে যখন এসব প্রাণী তাদের আশপাশে থাকে না। তবে তারা এটি কেন করে, তা জানাতে পারেননি গবেষকরা। ক্ষুদ্র একটি গবেষণাযানে বিজ্ঞানীরা ডলফিনের আচরণ নিয়ে বেশ কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং ডুবো মাইক্রোফোন দিয়ে তাদের সংকেত রেকর্ড করেন। রেকর্ডকৃত সংকেত পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, প্রত্যেক ডলফিনের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে এবং তাদের কণ্ঠস্বরও ভিন্ন। কিংয়ের মতে, একে-অপরের দিকে আহŸান করার চেয়ে প্রত্যেকের আলাদা নাম থাকা সবচেয়ে বেশি কৌতূহলের বিষয়। প্রত্যেক ডলফিনের আলাদা আলাদা নাম থাকা তাদের মধ্যে জটিল সেতুবন্ধন তৈরি করতে সহায়তা করে।
বিভিন্ন সম্পর্ক নির্ণয় করতে বিশেষ করে কে শত্রæ আর কে মিত্র কখনো কখনো তাদের প্রতিযোগীকে যাচাই করতে পুরুষ ডলফিনকে সাহায্য করে এই নাম। কিং বলেন, পরবর্তী গবেষণার বিষয় হবে পুরুষ ডলফিনের আন্ত:সম্পর্কের বিষয়। বিশেষ করে শার্ক বে-তে পুরুষ জোটদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক বিষয় পরিলক্ষিত হয় কি নাÑ তা জানতে সাহায্য করবে এ গবেষণাটি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *