মেসিকে যে কারণে ম্যারাডোনার পাশে বসান না আর্জেন্টাইনরা

স্পোর্টস ডেস্ক : ব্রাজিল কিংবদন্তি রিভালদো বলেছেন, মেসি এখনই লিজেন্ড। তবে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা ম্যারাডোনা। কারণ ম্যারাডোনা দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। তাই আর্জেন্টাইনরা হয়তো মেসিকে ম্যারাডোনার পাশে বসাতে চান না।
তিনি বলেন, ফুটবলে বিশ্বকাপের চেয়ে বড় কিছু হয় না। তাই যতক্ষণ না মেসি বিশ্বকাপ জিতছে, ওকে দেশের মানুষ কিংবদন্তির আসনটা দেবে না। ম্যারাডোনার পাশেও বসাবে না। আমি বিশ্বাস করি, মেসি ১০০ শতাংশই দেয়। ক্লাব আর দেশ- দুই জার্সিতেই।
নিজের সময়ের গ্রেটদের সঙ্গে মেসি-রোনাল্ডোর যদি তুলনা করতে হয়? রিভালদো বলেন, ফুটবল ইতিহাসের দুই ভিন্ন যুগের ফুটবলারদের তুলনা টানা সম্ভব নয়। মেসি, রোনাল্ডোর মধ্যেও দেখি তুলনা চলে! আমাদের সময়ও হতো। এসবের কোনো মানে নেই। এভাবে তুলনা করে সেরা বাছাই করা যায় না।

 

নিজের রেস্তোরাঁয় সতীর্থদের খাওয়ালেন মেসি
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ বাতিলের পর বার্সেলোনাতে আরো কিছুদিন প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। রাশিয়া যাওয়ার আগে প্রস্তুতির ফাঁকে সতীর্থ ফুটবলারদের লাঞ্চ অফার করেন মেসি। সেটাও আবার নিজের রেস্তোরাঁয়। কাতালান শহর বার্সেলোনাকে মেসির ‘সেকেন্ড হোম’ বলা চলে। ক্লাব ফুটবলে মেসি খেলেন বার্সেলোনাতে। স্প্যানিশ ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। সেকেন্ড হোমে তাই নিজের একটি রেস্তোরাঁ খুলেছেন মেসি। শহরের কেন্দ্রেই রয়েছে মেসির এই রেস্তোরাঁ। নাম ‘বেলাভিস্তা দেল জার্দিন নর্তে’।

বৃহস্পতিবার সেই রেস্তোরাঁতেই আর্জেন্টাইন দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের লাঞ্চের অফার দেন মেসি।
পাশাপাশি পরের মৌসুমে বার্সেলোনার অধিনায়ক হতে চলা মেসি নেইমারকে ফের বার্সায় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। ইনিয়েস্তা বার্সা ছাড়ার পর মেসিই হতে পারেন কাতালান ক্লাবের নতুন অধিনায়ক। তবে পরের মৌসুমে বার্সাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

 

ইসরাইলের সঙ্গে বিতর্কিত ম্যাচ বাতিল করল আর্জেন্টিনা

ফিলিস্তিনের রাজধানী পবিত্র জেরুজালেম শহরে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে বিতর্কিত প্রীতি ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দল। ফিলিস্তিনের গণহত্যায় ব্যবহৃত ইসরাইলের অধিকৃত টেডি স্টেডিয়ামে আগামী ৯ জুন ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল দল মঙ্গলবার ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দেয়।

আর্জেন্টিনার ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট মিনুতুনো জানায়, সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা, হুমকি ও সমালোচনার মুখে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার ফুটবল দল ইসরাইলের সঙ্গে ৯ জুনের প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করেছে। প্রথমে ইসরাইলের হাইফাতে এ ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও পরে ভেন্যু বদলে তা অধিকৃত পশ্চিম জেরুজালেমের টেডি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৪৮ সালে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করেছিল দখলদার ইসরাইল। স্টেডিয়ামটি ফিলিস্তিনিদের গুপ্তহত্যায়ও ব্যবহার করা হতো। এ কারণে ফিলিস্তিনিরা শুরু থেকেই এ ম্যাচটির বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারা মনে করেন, জেরুজালেমে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার খেলতে আসার অর্থ ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের পরোক্ষ স্বীকৃতি দেয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান জিবরিল রাজুব আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রধান ক্লদিও তাপিয়াকে লেখা এক চিঠিতে ম্যাচটি বাতিলের আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল খেলাকেও রাজনীতিকীকরণ করছে। তারা এমন একটি মাঠে খেলা আয়োজন করেছে, যেটি ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে বানানো। ১৯৪৮ সালে ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের গ্রাম ধ্বংস করে অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে টেডি স্টেডিয়াম বানিয়েছিল।

জিবরিল বলেন, ইসরাইল একটি দখলদার ও বর্ণবাদী বাহিনী। তারা সবসময় বৈশ্বিক মূল্যবোধ ও নীতি লঙ্ঘন করে আসছে। আর সেই মূল্যবোধ লঙ্ঘন করেই তারা এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেছে।

ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধ সত্তে¡ও আর্জেন্টিনা তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় জিবরিল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির প্রতি আহ্বান জানান, ‘মেসি তুমি ইসরাইলে খেলতে এসো না। ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যে জাতি বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়েছে, ইসরাইলে খেলতে এসে তার বৈধতা তুমি দিও না- এটি আমাদের অনুরোধ!’

জিবরিল আরও বলেন, ‘মেসি আমাদের কথা না শুনলে মুসলিম বিশ্বের সব তরুণকে বলব, তার ছবি ও জার্সি পুড়িয়ে ফেলতে। মেসিকে বর্জন করতে।’

মূলত ফিলিস্তিনিদের অনুরোধ, হুঁশিয়ারি ও বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে অবৈধ ইসরাইলি রাষ্ট্রের ৭০ বছর পূর্তির অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের আগে পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করল আর্জেন্টিনা।

 

জ্যোতিষীর দাবি: মেসির হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ শিরোপা!
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ১৪ জুন থেকে রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর একুশতম আসর। চলছে দলগুলোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিশেষজ্ঞরাও একের পর এক বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন বিষয়ে। তৈরি হচ্ছেন সমর্থকরাও। প্রতিবারের মতো এবারও শুরু হয়েছে ভবিষ্যত দ্রষ্টাদেরও বার্তা দেয়া। যার যার মতো করেই দিয়ে যাচ্ছেন ভবিষ্যৎবাণী। তেমনই এক ভারতীয় জ্যোতিষী জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির হাতেই উঠবে এবারের শিরোপা। কিছুদিন আগে অস্ট্রিয়ার সংখ্যাতত্ববিদরা অঙ্ক কষে দাবি করছিলেন ব্রাজিলই হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন। এবার আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য সুখবর দিলেন গ্রিনস্টোন লোবো নামে এক ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার দাবি, এ বছর বিশ্বকাপ জিতবে সেই দেশই যে দেশের অধিনায়কের জন্ম ১৯৮৬ বা ১৯৮৭ সালে। তার মতে, ওই বছরে জন্মালে গ্রহ নক্ষত্র বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেবে অধিনায়কদের।


ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে লোবো জানিয়েছেন, ব্রাজিলের কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ পাঁচবারের বিশ্বসেরাদের নতুন অধিনায়ক হিসেবে শনিবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের বয়স ২১। তার হিসেব অনুযায়ী, সম্ভাবনা নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরও। কারণ রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা পর্তুগালের এই ফরোয়ার্ডের জন্ম ১৯৮৫ সালে। তবে এই বছরের মধ্যে জন্ম নেয়া অধিনায়ক আছেন আর কে কে? জন্ম সালের হিসেবে এই তালিকায় অনেক অধিনায়কই আছেন। তবে এদের অধিকাংশই বিশ্বকাপ জয়ের উপযুক্ত তালিকায় ধরা হয় না। চারটি দলের অধিনায়কের জন্ম ১৯৮৬ বা ১৯৮৭ সালে। তারা হলেন, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, ফ্রান্সের হুগো লরিস, স্পেনের সার্জিও রামোস এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তবে এই চার অধিনায়কের মধ্যে লোবোর মতে মেসিই পাবেন শিরোপা। এই জ্যোতির্বিজ্ঞানীর যুক্তি, জার্মান অধিনায়ক ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন তাই, এ বছর তার সুযোগ কম। গ্রহ নক্ষত্রের বিচারে যে বাড়তি সুবিধা পাবার কথা ছিলো নয়্যার আগের বারই তা পেয়ে গেছেন। বাকি তিনটি দল। রামোস ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয় ছাড়াও রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক হিসেবে চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন লিগের শিরোপাও জিতেছেন ৩২ বছর বয়সী এই তারকা। তাই তার সুযোগও কম। লোবোর দাবি, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা দুটি দলেরই প্রায় সমান সুযোগ রয়েছে বিশ্ব সেরা হবার। তবে, ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের থেকে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। কারণ, ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে ফুটবলা বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে। সে তুলনায় অধিনায়ক মেসি এখনও বড় কোনও ট্রফি জয় করতে পারেননি। তাই অঙ্কের বিচারে এবার আর্জেন্টিনারই চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত।
আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য আরও ভালো খবর হলো, এর আগেও একাধিকবার লোবোর ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে। বলিউডের তারকাদের নিয়ে প্রায়ই ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটাররাও তার দ্বারস্ত হন। ২০১০ সালে স্পেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হবে সেটিও আগেই বলেছিলেন লোবো, এমনটাই তার দাবি। এবার দেখার অপেক্ষা লোবোর ভবিষ্যৎবাণী সঠিক হয় কিনা!

 

বিশ্বকাপ না জিতলে ‘অবসর’ নেবেন মেসি!
পেলে না ম্যারাডোনা, কে সেরা? ফুটবলে এক চিরন্তন দ্বন্দ্ব। যার অবসান ঘটানোর মত একজন মাত্র ফুটবলার জন্ম নিলেন এখনও পর্যন্ত। যদিও, তাকেই ভক্তরা এখনই পেলে-ম্যারাডোনার চেয়ে সেরার আসনে বসিয়ে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। তিনি আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি, লিওনেল মেসি। যার পায়ের জাদুতে এখনও মোহিত হচ্ছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

কিন্তু নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কেউ কী সত্যি সত্যি মেসিকে সেরা বলতে পারবেন? তিনি তো ক্লাব পর্যায়ের একজন সেরা ফুটবলার। আলফ্রেডো ডি স্টেফানোও তো এমন একজন ফুটবলার ছিলেন। যিনি, ক্লাব পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য এক উচ্চতায়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৫০-৬০ এর দশকে ডি স্টেফানো নিজেকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই বলতে গেলে মেসি নিজেকে নিয়ে গেলেন।
ডি স্টেফানো যদিও আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্প্যানিশ জাতীয়তা নিয়ে খেলেছেন স্পেন দলের হয়ে। তবুও, ১৯৪৭ সালে ডি স্টেফানো আর্জেন্টিনাকে উপহার দিয়েছেন কোপা আমেরিকার শিরোপা। লিওনেল মেসি সেটাও পারেননি। তার যা অর্জন ক্লাবের হয়ে। কোনো শিরোপা বাকি নেই যা তার হাতে ওঠেনি; কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে লিও মেসির অর্জন একেবারে শূন্য। অথচ দেশটির ফুটবল সম্রাট হিসেবে পরিচিত, দিয়েগো ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্ব ক্লাব পর্যায়ের চেয়ে জাতীয় দলের হয়েই বেশি। তিনিই তো এককভাবে জিতিয়েছিলেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ। দলকে তুলেছিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে।

মেসির ভাগ্যটাই সু-প্রসন্ন নয় মূলতঃ। কারণ, সর্বশেষ তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেললেও, মেসির হাতে উঠলো না কোনো শিরোপা। ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা যেন মেসির দিকে তাকিয়ে উপহাসের হাসি দিয়েছিল। এত কাছে এসেও কত দুরে থাকতে হলো বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন সুপার স্টারকে। জার্মানির কাছে একমাত্র গোলে হেরেই অধরা ট্রফিটা আর ছুঁতে পারলেন না লিও মেসি।

এরপর ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে টানা দু’বছরে দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছিল মেসির আর্জেন্টিনা; কিন্তু একই প্রতিপক্ষ চিলির কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়েছে লা আলবেসেলেস্তেদের। মেসিকেও পুড়তে হয়েছে চরম হতাশায়। বিশেষ করে ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর, ক্ষোভে-অভিমানে মেসি অবসরের ঘোষণাই দিয়ে বসেছিলেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তিনি আর খেলবেন না।

অবশেষে আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত অবসর ভেঙ্গে দলে ফেরেন তিনি। এমনকি বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়ডরের বিপক্ষে মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সেই রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে সক্ষম হয়েছে আর্জেন্টিনা।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বিশ্বকাপে গেলেও রাশিয়ায় কিন্তু শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার কিন্তু আর্জেন্টিনা। সেটা শুধুমাত্র মেসির কারণেই। আর্জেন্টাইন সমর্থকরাও এবার সবচেয়ে বেশি আশাবাদী, ক্যারিয়ারের হয়তো শেষ বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফিটা উঠবে মেসির হাতেই। বার্সা তারকা নিজেও আশাবাদী, এবার আর বিশ্বকাপটা তার সঙ্গে উপহাস করবে না। সত্যি সত্যি ধরা দেবে তার হাতে।

যদি বিশ্বকাপটা রাশিয়া থেকে আর জিততেই না পারেন, তাহলে মেসি ঘোষণা দিয়ে দিলেন, তিনি আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলবেন না। তিনি এবার সত্যি সত্যি অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেবেন।

লা কোরনিসাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা অনুভব করি, যদি রাশিয়া থেকেও বিশ্বকাপটা জিততে না পারি, তাহলে একমাত্র পথ হচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই ছেড়ে দেয়া। আমি স্বপ্ন দেখি রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ জেতার। আমার ইচ্ছা, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেই স্বপ্নটাকে জিইয়ে রাখা।’

নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘আপনি কিন্তু সব সময় সঠিক থাকতে পারবেন না। ভুল হবেই। ব্যর্থ হবেনই। যেমনটা আর্জেন্টিনা ব্যর্থ হয়েছিল ব্রাজিলে।’

রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা খেলবে ‘ডি’ গ্রুপে আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এবং নাইজেরিয়া। গ্রুপ পর্ব থেকেই বলতে গেলে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে। মেসিও সেই স্বপ্নে বিভোর। জাতীয় দলের হয়ে ১২৩ ম্যাচ খেলে এখনও পর্যন্ত ৬১ গোল করেছেন মেসি। এবার এই স্কোর টালি আরও এগিয়ে নেবেন তিনি এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেবেন- এই আশা করতেই পারেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *