রমজানেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে সরকার- আশা রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : এই পবিত্র রমজান মাসেই সরকার প্রতিহিংসা ত্যাগ করে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

রিজভী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ আশা করেছিলেন, এই পবিত্র রমজানে অন্তত হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, লোভ-মোহ, প্রতিহিংসা-জিঘাংসা থেকে আত্মশুদ্ধি লাভ করবে সরকার ও সরকার প্রধান। জনগণের নেত্রীকে মুক্তি দিয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসতে দেওয়া হবে। একজন নিরপরাধ ৭৪ বছর বয়সী চারবারের প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে মধ্যরাতের সরকার যে অপরাধ করেছে তা থেকে নিজেদের শুধরে নেবে তারা।’

তিনি বলেন, বাস্তবে সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা ত্যাগ করতে পারেননি। এই পবিত্র মাসেও মিডনাইট নির্বাচনের সরকার ও সরকার প্রধানের মধ্যে রমজানের মাহাত্ম্যের লেশমাত্র নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আদালতকে কুক্ষিগত করে রেখে বেগম জিয়ার জামিনে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আগুন নিয়ে আর খেলবেন না। এই হিংসার আগুনে একদিন হয়তো আপনাদের নিজেদেরই সর্বনাশ হবে।’

সরকার দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তার অভিযোগ, সুচিকিৎসা ও জামিনে বাধা প্রদানের পেছনে গভীর ভয়ঙ্কর নীলনকশা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। পুরো আইনি প্রক্রিয়াতে প্রতিহিংসাপরায়ণতা আর জিঘাংসায় ভরপুর। দেশনেত্রীকে প্রাণহানির হুমকির মুখে ফেলে রেখে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার জন্য কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত বসাতে। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে পিজি হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলছে। গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়নি, তিনি এখনো বেশ অসুস্থ।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলছেন এবার সেই ‘ডার্টি গেইম’ বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার বন্ধ করুন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আদালতের স্বাধীনতাকে কারাগারে বন্দী করবেন না। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।’

সরকারের বর্বর মতলব জনগণের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘জনগণ আর আপনাদেরকে রেহাই দেবেন না। সরকার যদি বারবার দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয় তবে রাজপথেই হবে ফয়সালা। অন্যায়কারী-জুলুমবাজরা কখনো বিজয়ী হতে পারে নাই। এই মধ্যরাতের সরকারও পারবে না। এখন বাংলাদেশের সকল জনগণ একদিকে আর বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আরেক দিকে। দিনের শেষে জনগণের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *