রাউজানে বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করে তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা

রাউজান থেকে সংবাদদাতা: রাউজানে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে জখম করে তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর বাজারে। ওই ব্যক্তির নাম নুরুল আলম (৬০)। তিনি একই ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের করম আলী হাজীর বাড়ীর সুলতান আহমদের পুত্র। তিনি ৩ বছর আগে আমিরাত থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর একটি ট্রাক কিনে ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন। তবে তার দুই ছেলেও ওমান প্রবাসি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে উরকিরচর বাজারে যান নুরুল আলম। এসময় ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে সড়কের উপড় আটকিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে জখম করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় একটি অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যান হামলাকারীরা।

পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পযর্ন্ত কোনো হদিস পাননি বলে জানিয়েছেন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

দুপুর ১২টায় সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কের উপর ওই বাজারের সড়কের একপাশে রক্তাক্ত দুটি স্যাণ্ডেল পড়ে আছে। সড়কের উপর প্রচুর ছোপ ছোপ রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাজার থেকে উত্তরদিকে যে পিচঢালা সড়কটি উরকিরচর গ্রামের দিকে গেছে সেই সড়কের উপর ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখা গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশা চালক মুহাম্মদ রাসেল বলেন, সকালে ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন কিছু দুর্বৃত্তদের।

ওই ব্যক্তির স্ত্রী নুর বানু বলেন, গত রমজান মাসে তার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছিল কিছু দুর্বৃত্ত। দুর্বৃত্তরা তার বাড়ী ভাংচুর করে নগদ ২ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বার্ণালংকার নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় কিছু যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর শত্রুতা বাড়ে। তিনি জানান, শনিবার বিকেলে অভিযোগ দিতে থানায় গেলে ওসি না থাকায় মামলা করতে পারেননি। তবে ওসি থানায় এলে তাকে আসতে বলেন কর্তব্যরত কর্মকর্তা।

উরকিরচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ছয়মাস আগে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি মুহাম্মদ আবু কে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে দুইমাস কারাগারে ছিলেন নুরুল আলম। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে মুক্ত হয়ে বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন।

নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ীর উপ পরিদর্শক শেখ জাবেদ মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। এতে মনে হয় লোকটার মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো তার খোঁজ বা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নুরুল আলমের ভাই আমিরাত প্রবাসি মুহাম্মদ আকরাম মুঠোফোনে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জরের তার ভাইকে স্থানীয় কিছু যুবক কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য তুলে নিয়ে গেছে। তিনি তার ভাইয়ের লাশের খোঁজ ও এ ঘটনার বিচার দাবি করেন প্রশাসনের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *