শিলা, সাবিনা, মাবিয়াদের লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক : ৮ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। সমাজের বিভিন্ন স্তরের নারীদের নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। ক্রীড়াঙ্গনও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অবদান রয়েছে যথেষ্ট। নারী দিবসে কথা বলেছেন দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ক্রীড়া আসর এসএ গেমসে দুই স্বর্ণ জিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, এসএ গেমসে প্রথম স্বর্ণ পদকজয়ী ভারত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, দেশের একমাত্র মহিলা ফুটবলার হিসেবে দেশের বাইরে লীগ খেলা সাবিনা খাতুন এবং ইতিহাস গড়ে পুরুষ ফুটবল দলের প্রথম নারী কোচ মিরোনা।
জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন বলেন, ‘সামপ্রতিক বছরগুলোতে সীমিত সুযোগ সুবিধার মাঝেও মহিলা ফুটবলের অগ্রগতি প্রশংসনীয় বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে মহিলা ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। তা প্রমাণিত হয়েছে।

এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে দু’ইবার আমরা চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। পুরুষ দল সেখানে সাফের পরপর চার আসরে গ্রুপপর্বের বেড়াজাল ছিড়তে পারেনি। নারীদল সেখানে গত আসরে রানার্সআপ হয়েছে। এবারো ফাইনালের টার্গেট নিয়ে আমরা নেপাল যাবো। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সঙ্গে নতুন খেলোয়াড়রা আসলে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে আমি মনে করি।’
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নাম সবার আগে আসে। গৌহাটি এসএ গেমসে জোড়া স্বর্ণ জয়ী মাহফুজা খাতুন শিলা। নারী দিবস সম্পর্কে মাহফুজা খাতুন শিলা বলেন, ‘আমি শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয় সামগ্রিক অর্থেই বলবো নারীরা এগিয়ে আসছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সার্ভিসেস বাহিনী, সর্বত্র নারীদের ভূমিকা রয়েছে। একজন নারীকে দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হয়। পেশাদার দায়িত্বের পাশাপাশি পারিবারিক কাজ। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনেও নারীরা একটা বাড়তি চাপ নিয়ে আসে। সব নারী সমান সহযোগিতা পায় না পরিবার থেকে। এটা অনেক ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। শুরু থেকে প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আসার পর পরবর্তী ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিবন্ধকতা খুব বড় কিছু মনে হয় না। ক্রীড়াঙ্গনে নারীরা পুরুষের চেয়ে কোনোভাবে পিছিয়ে নেই এটা আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলবো। এবার এসএ গেমস ছাড়াও সামগ্রিক ফলাফল বিবেচনা করলে নারীরা কোনোভাবেই পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে নয়।’
১২তম এসএ গেমসে বাংলাদেশকে প্রথম স্বর্ণ এনে দেন ভারত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। নারী দিবসে তিনিও আলোচনায়। নারী দিবস নিয়ে সীমান্ত বলেন, ‘নারী দিবস নিয়ে আমি কথা বলতে পারছি। এটা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে একটা বড় অর্জন। এই নারী দিবসে আমার প্রত্যাশা আগামী নারী দিবসগুলোতে ক্রীড়াঙ্গনে আরো নারীরা আলোচিত হবেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হবেন।’ সূত্র: এমজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *