সময়ই বলে দেবে সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কিনা: গয়েশ্বর

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সময়ই বলে দেবে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল কিনা। সোমবার সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের আয়োজনে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি’ শীর্ষক এক নাগরিক প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘রং ডিসিশন ইজ বেটার দেন ইনডিসিশন। রাইট অর রং, সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ পরিবেশ পরিস্থিতিতে, রাজনীতিতে এবং ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনেও প্রতি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত সংশোধন বা পরিবর্তন হয়। প্রত্যেক পরিবর্তনের পেছনে কোনো না কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে। কিন্তু সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্তই। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল বর্জনের পর সংসদে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তের বাকি ছিল।

এখন সংসদে যাওয়া শেষ। এটা নিয়ে ভুল ও শুদ্ধের কথা বলার কারণ নেই। সময় বলে দেবে এই সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল কিনা। এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমাদের দেখতে হবে পার্লামেন্টে আমাদের সংসদ সদস্যরা কতটুকু এক্সারসাইজ করতে পারে। কতটুকু তাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়। সরকারি দল আমাদের এমপিদের কতটুকু সহ্য করতে পারে।

তিনি বলেন, সংসদে যাওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো তর্ক-বিতর্ক নেই। দলের একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা পথ চলব। এটা হলো মূল কথা। এসময় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান গয়েশ্বর। তিনি বলেন, কেউ কেউ আশা করছিলেন এই সংসদে যাওয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তি। হাসিনার কথার পরে বোঝেন নাই যে উনার মুক্তি আদালতের উপর নির্ভর করে না। উনার মুক্তি নির্ভর করে শেখ হাসিনার ইচ্ছার উপর।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে গিয়ে বলেছেন- এই তারেককে বাড়াবাড়ি করতে মানা করবে, না হলে ওর মাকে আজীবনের জন্য জেলে রাখবো। তার মানে, আইন ও আদালতের কারণে নয়, শেখ হাসিনার ইচ্ছায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সারাজীবন কারাগারে থাকতে হবে। এখন আমি যদি বলি, আদালতের হাত-পা বাধা এবং সরকারের কথার বাইরে আদালত যেতে পারে না। তাহলে আদালত আমাকে ডেকে বলবে, আপনি আদালত অবমাননা করেছেন। তবে আমি বিচারপতিদের প্রতি নিবেদন করবো, একজন কারাবন্দীকে আজীবন কারাগারে থাকতে হবে, এমন হুমকি যখন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে দেয়- তাকে কি একটু আদালতে এনে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, এই সিদ্ধান্ত দেয়ার আপনি কে?

আদালতের উদ্দেশ্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন? পারবেন না। বরং আমাকে ডাকতে পারেন। ডেকে বলবেন, আপনি আবার প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এগুলো বলতে গেলেন কেন? এই কারণে মাননীয় আদালতের কাছে অনুরোধ করবো, উনাকে ডাকেন। এই ডাকাটা মনে হয় জাতির জন্য জরুরি। তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন, আমার কাজটা যদি আপনি করেন, তাহলে এই চেয়ারে আমার থাকার দরকার কী?

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। কোনো কিছু ব্যবস্থা না করে উনি দেশের বাইরে যাবেন- একথাটা বেমানান হয়ে যায় না? আর লন্ডনে উনার বোনের বাড়ি এবং ভাগ্নির বাড়ি আছে। যদি হোটেল বুকিং না দিয়ে থাকেন তাহলে তো উনি সরাসরি ওখানে উঠবেন। কিন্তু গাড়ি নিয়ে এই হোটেল ওই হোটেল ঘোরাঘুরি কোনো মানানসই কাজ না। কি কারণে এতো তাড়াহুড়া করে চলে গেলেন? আর কি কারণে বললেন, তারেক রহমান বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়া আজীবন জেলে থাকবেন? তিনি বলেন, আমার একটা কথা মনে আছে। একসময় এই প্রধানমন্ত্রীকে উচ্চ আদালত কোনো একটা মামলার রায়ের অবজারভেশন বলেছিল ‘রং হেডেড’। এটার অর্থ মারাত্মক।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহরিয়া ইসলাম শায়লা, ফরিদউদ্দিন, খলিলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *