হাদিসের কাহিনি: রক্তপণ না নেওয়া

আবদুল হালিম খান : হজরত আহমদ ইবনে মুহাম্মদ হতে হজরত আবুস সফর (র.) বর্ণনা করেন। কোরাইশের এক ব্যক্তি এক আনসারীর দাঁত ভেঙে ফেলেছিল। সে হজরত মুয়াবিয়া (র.)-এর নিকট ফরিয়াদ করল এবং বললো, হে আমিরুল মোমিনীন! সে আমার দাঁত ভেঙে ফেলেছে।

হজরত মুয়াবিয়া (র.) বললেন, আমি তোমাকে খুশি করে দেব। অর্থাৎ কেসাসের পরিবর্তে আমি তোমাকে পয়সার ব্যবস্থা করে দেব।
কিন্তু ওই ব্যক্তি হজরত মুয়াবিয়া (র.)-এর উপর চাপ সৃষ্টি করল। অর্থাৎ সে ব্যক্তি দাবি করল যে, আমাকে কেসাসই নিয়ে দিন।

হজরত মুয়াবিয়া (র.) বললেন, তুমি জান আর তোমার সাথিও জানে। এর উদ্দেশ্য এই ছিল যে, তাকে আমি তোমার হাওয়ালা করে দিচ্ছি। তুমি এখন কেসাস নিয়ে নাও।

হজরত আবু দারদা (র.) সে মজলিসেই উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেন, আমি প্রিয়নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো দৈহিক দুঃখকষ্ট, কষ্টদাতাকে ক্ষমা করে দিল, অর্থাৎ কেসাস নিল না, মহান আল্লাহতায়ালা এর বিনিময়ে তার দরজা বুলন্দ করে দেবেন। আর তার গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

এ হাদিসটি শুনে সে ব্যক্তি হজরত আবু দারদা (র.)-কে জিগ্যেস করল, আপনি কি নিজে এ হাদিস শুনেছেন?

হজরত আবু দারদা (র.) বললেন, আমার কর্ণদ্বয় একথা শুনেছে। আমার অন্তর একথা সংরক্ষণ করেছে।

তখন ওই ব্যক্তি বলল, আমি তাকে ক্ষমা করে দিচ্ছি।

হজরত মুয়াবিয়া (র.) বললেন, অবশ্যই আমি তোমাকে নিরাশ করব না। অতএব হজরত মুয়াবিয়া (র.) তাকে এই মহৎ গুণের বিনিময়ে অর্থাৎ রক্তপণ না নেওয়ার কারণে তাকে কিছু সম্পদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *