৪১ শতাংশ ট্যাপের পানিতেই ব্যাক্টেরিয়া

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের পাইপলাইনে সরবরাহকৃত পানি পরীক্ষায় দেখা গেছে ৪১ শতাংশ ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ রয়েছে। এছাড়া পানিতে আর্সেনিকের ঝুঁকিও রয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে এ পানি পান করায় ডায়রিয়া, জন্ডিস ও কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া আর্সেনিকের কারণে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। রাজধানী সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিক ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেফ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রিং জুম্মা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়া থাকায় এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে এক-পঞ্চমাংশ দারিদ্র্য মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দারিদ্র্য, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শহর ও গ্রামের সবাই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শহরের বস্তিতে বাস করা লোকজন আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যায় বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এর চেয়ে প্রধান সমস্যা হলো সবার কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের পাঁচ কোটি মানুষ টয়লেট শেয়ার করেন। অর্থাৎ একাধিক পরিবারের লোকজন একটি টয়লেট ব্যবহার করেন। এ সংখ্যা গ্রামে যেমন রয়েছে, তেমনি শহরেও রয়েছে। তবে শহরের বস্তি এলাকায় টয়লেট শেয়ারের সংখ্যা গ্রাম এলাকার লোকজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ফলে এসব লোকজন নানা প্রকার রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে ভুগর্ভস্থ পানির ১৩ শতাংশে আর্সেনিক রয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এ আর্সেনিকের সংখ্যা বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানিতে আর্সেনিকের সংখ্যা বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *