অপহরণের ৭ বছরেও খোঁজ মেলেনি ব্যবসায়ী বাছেদের

আবুল কালাম আজাদ ভূইয়া, কুমিল্লা থেকে: অপহরণের ৭ বছরেও খোঁজ মেলেনি ব্যবসায়ী বাছেদের।
অপহরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে। কিন্তু বাছেদের খোঁজ মেলেনি।

কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট গ্রামের অহিদুল আলমের ছেলে ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তুষারধারা এলাকার বাছেদ পুরান ঢাকার ইসলামপুরে কেমিক্যালের ব্যবসা করতেন। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তিনি নিখোঁজ হন।

বাছেদ আলম এখনো জীবিত বলে বিশ্বাস তার স্ত্রী পুতুল চৌধূরীর। তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় বাছেদের ৩টি মোবাইল ফোন নম্বরের মধ্যে বাংলালিংক ও এয়ারটেল নম্বর দুটি বন্ধু রয়েছে। ২০১৭ সালে ২৩ জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বাছেদের ব্যবহৃত রবি নম্বারটি।
পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তখন নম্বরটি ব্যবহার করেছিল এক নারী।
অবস্থান ছিল চট্টগ্রামে। বিষয়টি র্যাব-১১ –এর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে ২৯ আগস্ট বাছেদের ব্যবহৃত ফেসবুক একাউন্টও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

জানা গেছে, বাছেদের মুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বাছেদ তখন নজরুলের জিম্মায় বলে জানানো হয়। সাদ্দাম মার্কেট এলাকার বাসিন্দা নজরুল। একটি মোটর সাইকেল বিক্রি নিয়ে নজরুল-বাছেদের বিরোধ হয়।
বাছেদের সঙ্গে টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল মামাতো ভাই কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ও আন্দিকোট গ্রামের মৃতঃ আব্দুল রহিম ছেলে খোকনেরও। ৬ মার্চ বাছেদ ধারের ১৫ লাখ টাকা ফেরত
চাওয়ায় খোকনের সঙ্গে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে খোকন বাছেদকে হুমকি দেন। তোকে দুনিয়ায় থাকতে দেব না। হুমকির ৭দিনের মাথায় বাছেদ অপহৃত হণ। বাছের অপহরণের পর পুলিশ নজরুল তার স্ত্রী আয়েশা ও শ্যালিকা লাকীকে গ্রেফতার করে। লাকীই নজরুলের কথায় বাছেদের পরিবারকে ফোন করে মুক্তিপণ চেয়েছিল। পরে এ তিনজনই জামিনে মুক্তি লাভ করেন। নজরুল জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়ে যান।

মামলার বাদী নিখোঁজ বাছেদের বাবা অহিদুল আলম ২০১৪ সালের ৯ জুলাই মারা যান। এরপর থেকে কার্যত মামলার অগ্রগতি থমকে গেছে।

স্বামী বাছেদ আলম বেঁচে আছেন , তিনি ফিরে আসবেন- এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন দুই সন্তানের জননী পুতুল চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে আগস্টে নজরুলের একটি ফেসবুকে বাছেদ আলম ও আসামি নজরুলের ছবি দেখতে পাই। পরবর্তীতে ওই ফেসবুক থেকে বাছেদ এবং নজরুলের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। কিন্তু সাত বছরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বামী বাছেদের সন্ধান দিতে না
পারায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব- ১১-এর এসআই কামাল হোসেন জানান, বাছেদ আলম অপহরণ মামলা তদন্ত চলছে। বাছেদের মোবাইল এবং ফেসবুক সক্রিয় পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী পুতুল চৌধূরী। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

Check Also

রাউজানে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: রাউজানে পুকুরে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মো. ইসমাঈল (৫)। …

মুরাদনগরে সাংবাদিক শরিফের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুমিল্লা প্রতিনিধি: মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী ও তার পরিবারের ওপর দিনদুপুরে সন্ত্রাসী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *