অভিনেত্রী নওশাবা পরিকল্পিতভাবে ফেসবুক লাইভে ‘গুজব ছড়িয়েছেন’

অনলাইন ডেস্ক : অভিনেত্রী কাজী নওশাবা ছাত্র আন্দোলনকারে ফেসবুক লাইভে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যু ও চোখ তুলে ফেলার গুজব ছড়িয়েছেন বলে দাবি করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

ওই ইউনিটের পরিদর্শক শওকত আলী সরকার আদালতে এ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে একটি চার্জশিট দাখিল করেছেন, যা আজ সোমবার জানা গেছে।

কাজী নওশাবা ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং প্রচার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ (সংশোধনী) এর ৫৭(২) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আগামীকাল মঙ্গলবার এ মামলাটির ধার্য তারিখ। এদিন চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে আদালতে শুনানির দিন ধার্য আছে।

মামলাটিতে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এরপর ওই বছর ৫ আগস্ট চার দিন এবং ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর একই বছরের ২০ আগস্ট ঈদুল আজহার আগের দিন আদালতের ছুটির দিনে মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারামুক্ত হন।

গত ৩ মার্চ আইনজীবীর মাধ্যমে এ অভিনেত্রীর হাজিরা প্রদানের আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন। পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত ওই হাজিরা মঞ্জুর আছে। যেহেতু পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে, তাই মঙ্গলবার নওশাবা আদালতে হাজির হবেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, নওশাবা নিজের মুঠোফোন থেকে নিজ নামের ফেসবুক আইডিতে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ি থেকে অত্যন্ত আবেদনময়ী কণ্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন, ‘আমি কাজী নওসাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন। প্লিজ ওদেরকে প্রটেকশন দেন। বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রটেকশন দেন। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আমি এ দেশের একজন মানুষ, নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি যে, জিগাতলায় একটু আগে একটি স্কুলে একটি ছেলের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদেরকে অ্যাট্যাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখই নামবেন। আপনাদের বাচ্চাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। এটা আমার রিকোয়েস্ট। যে পুলিশরা আছে, তারা অবশ্যই বাচ্চাদের প্রটেকশন দেন। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। সরকার যদি দায়িত্ব নিতে না পারে। তাহলে জনগণ কিসের জন্য আছেন আপনারা। আমরা ৭১ এ পেরেছি, ৫২ তে পেরেছি এবারও পারব। আমাদের দরকার নাই কাউকে।’

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, তার এই আহ্বান মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক্সমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যার ফলে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী তার এই মিথ্যা প্রচারণার উৎস জানার জন্য ফোন করলে তিনি তার সপক্ষে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ভাবমূতি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এবং জনসাধারণের অনিুভূতিতে আঘাত করার জন্য এই রকম মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *