আমসত্ত্ব বেঁচে সফল চাঁপাইনবাবগণ্জের ফারজানা ইয়াসমিন।

উদ্যোক্তা বার্তাঃ- রাজশাহী কলেজ থেকে ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে মাস্টার্স করেছেন ফারজানা ইয়াসমিন । ভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়েই দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ফারজানা ইয়াসমিন এর গ্রামের বাড়ী আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগণ্জের শিবগণ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়ন এর ওয়াজিউর রহমান মিয়ার স্ত্রী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের বউমা হওয়া সত্বে শখের বশে নিজের হাতে বানানো এই আমসত্ত্ব বেচেই প্রথম বছরে তিনি আয় করেছেন ১ লক্ষ টাকা। আর এবছর আয় করেছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ই ফারজানার বিয়ে হয়ে যায়। তারপরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। অর্নাসের শেষ দিকে এসে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ফারজানা ইয়াসমিন । ছোট্ট শিশু ওয়াজিহা রহমান স্নেহা কে সময় দিতে গিয়ে চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া হলো না। তবে নিজের চেষ্টায় কিছু একটা করতে হবে, এই আগ্রহ মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন। আর তাই সারা দেশ যখন করোনায় দিশাহারা, উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন ফারজানা।

রান্না করতে ভালোবাসতেন ফারজানা। রান্নার বিভিন্ন রকম ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজ “চাঁপাই রকমারী পণ্য” তে আপলোডও করতেন। সেই সব ছবির মধ্যে আমসত্ত্বও ছিল, দেখে কয়েকজন প্রথম দিন ক্রয় করতে আগ্রহী হলেন। নক করলেন ‘আমসত্ত্ব’ কেনার জন্য। ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘২০২১ সালের মে মাসে প্রথম অর্ডার আসে। তখনো কিন্তু জানি না, কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করব। ক্রেতার কাছে সেটা পৌঁছানোর উপায়ও মাথায় নেই। তারপরও অর্ডার যেহেতু পেয়েছি, সাহস করে নিয়ে নিলাম।’

আমসত্ত্ব পেয়ে ক্রেতাও ভালো রিভিউ দিলেন। দু–একজন নিয়মিত আমসত্ত্ব চাইতে শুরু করলেন। ফারজানা তখন ভাবলেন, এটা নিয়েই তাহলে কাজ শুরু করি। বছর শেষে ফারজানা হিসাব করে দেখলেন, আমসত্ত্বই বিক্রি করেই পেয়েছেন ১ লক্ষ টাকা । আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। ক্রেতারাও একের পর এক অর্ডার করতে থাকলেন। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।

ফারজানা যেহেতু আমের মৌসুমেই আমসত্ত্ব তৈরির কাজ শুরু করেন, শুরুতে তাই সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়নি। চাহিদা বাড়তে শুরু করলে সেটা নিয়েও ভাবতে বসেন। ক্রেতা চাইলে সারা বছরই যাতে আমসত্ত্ব দিতে পারেন, সেই চিন্তা মাথায় রেখে এখন আম সেদ্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী টক-ঝাল আমসত্ত্ব সরবরাহ করেন। ফারজানা বলেন, ‘সারা বছরের জন্য পাকা আমগুলো সংরক্ষণ করি। যখন অমৌসুমে অর্ডার পাই, ফ্রিজ থেকে আম বের করে চুলায় জাল দিয়ে নানা রকম মসলা যোগ করি। ছড়ানো পাত্রে রোদে শুকিয়ে আমসত্ত্ব তৈরি করি। আর পুরো কাজই আমি নিজের হাতে করি। ক্রেতার কাছে স্বাস্থ্যকর পণ্য পৌঁছে দিতে চেয়েছি সব সময়।’
তার এ ব্যবসার পাশে থেকে সবসময় সহযোগিতা করছেন তার স্বামী ও পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ।

ফারজানা ইয়াসমিন আমসত্ত্বের পাশাপাশি নকশীকাঁথা সহ বিভিন্ন ধরনের হোমমেড খাবার বিক্রয় করেন।

ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘নিজস্ব ইউনিক আইডিয়া থাকতে হবে। কারও একটি বিষয় দেখে অনুকরণ না করে নিজে যেটা ভালো পারি, সেদিকে নজর দিতে হবে। আর উদ্যোক্তা হতে অবশ্যই ধৈর্য ও ভালোবাসা থাকতে হবে। কাজের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে নিজের সততা প্রমাণ করতে হবে।’
আমাদের জন্য দোয়া করবেন সবসময় ১০০% বিশুদ্ধ আমসত্ত্ব সারাদেশে পৌঁছে দিতে পারি।

Check Also

বাঁশকাটা কে কেন্দ্র করে চাচা চাচি কে নির্মমভাবে যখম করছে ভাতিজা।

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার আপন চাচা চাচিকে নির্মম ভাবে যখম করছে ভাতিজা। এস,এম মোস্তাকিম নওগাঁ …

ক্যান্সার,কিডনি,লিভার সিরোসিস,স্ট্রোক প্যারালাইজড,থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান

বদলগাছী, উপজেলা প্রতিনিধি, বদলগাছী উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় বদলগাছী কর্তৃক আয়োজিত ক্যান্সার,কিডনি,লিভার সিরোসিস,স্ট্রোক প্যারালাইজড,থ্যালাসেমিয়া রোগীদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *