আল্লাহ আমাকে দুনিয়াবাসীর উপর আমানতদার সৃষ্টি করেছেন

আবদুল হালিম খান : হজরত আবু সাঈদ (র.) কর্তৃক বর্ণিত। হজরত আলী (রা.) নবি করিম সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম-এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরা প্রেরণ করলেন। তিনি তা চারজন লোকের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। আকরা ইবনে হাবিস আল হাসযালী, যিনি মাজাশিরী স¤প্রদায় ছিলেন। উয়াইনা ইবনে বদর আল ফাযারী, যায়েদ আত্তায়ী, যিনি বনু নাবহান স¤প্রদায়ভুক্ত ছিলেন এবং আলকামা ইবনে উলাছা আল আমেরী যিনি বনু কিলাবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এতে কোরাইশ ও আনসাররা ক্ষুব্ধ হলো এবং বলতে লাগল, তিনি (নবি করিম সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম) নজদবাসীদের নেতাদের প্রদান করেছেন আর আমাদের উপেক্ষা করেছেন (দিচ্ছেন না)।

নবি করিম সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম বললেন, আমি তো তাদের (ইসলামের দিকে আকর্ষণ করার জন্য) মন খুশি করেছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে অগ্রসর হলো, যার চক্ষুদ্বয় কোটরাগত, গÐদ্বয় স্খলিত, ললাট উঁচু, দাড়ি ঘন ও মস্তক মুÐানো। সে বলল, হে মুহাম্মদ! আল্ল¬াহকে ভয় করো। তিনি বললেন, আমিই যদি নাফরমানী করি তবে আল্ল¬াহর আনুগত্য কে করবে? আল্লাহ আমাকে দুনিয়াবাসীর উপর আমানতদার সৃষ্টি করেছেন। আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি ওই লোকটিকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। (আবু সাঈদ (র.) বলেন) আমার ধারণা ওই ব্যক্তি খালেদ ইবনে অলীদ ছিলেন; কিন্তু নবি করিম সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম তাঁকে নিষেধ করলেন। (অভিযোগকারী) লোকটি চলে গেলে নবি করিম সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম বললেন, এ ব্যক্তির বংশে বা এ ব্যক্তির পরে, এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে, যারা কুরআন পাঠ করবে; কিন্তু তা কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। ধর্ম হতে তারা এমনভাবে বের হয়ে যাবে, ধনুক হতে যেভাবে তির (ছুড়লে) বের হয়ে যায়। তারা মুসলমানদের হত্যা করবে এবং মূর্তি পূজকদের অব্যাহতি দেবে। যদি আমি তাদের পেতাম তবে আদি জাতির মতো অবশ্যই তাদের হত্যা করতাম। (সহিহ বোখারি)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *