আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশিত পথেই চলতে হবে: ছারছীনার পীর

ছারছীনা থেকে মোঃ আবদুর রহমান : আজ থেকে ১৩০ বছর পূর্বে শুরু হওয়া এ মাহফিলটি প্রতি বছর নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর শুক্রবার শেষদিন হওয়ায় বাদ জুমা আখেরী মুনাজাতে রেকর্ড সংখ্যক লোকের গণজমায়েত হওয়ার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষও বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মাহফিল মাঠ দেড়গুণ সম্প্রসারণ করেছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির প্রেক্ষিতে সরকারি সিদ্ধান্তে বড় জমায়েত পরিহার করতে শুক্রবারের মাহফিল পরিত্যক্ত করে বৃহস্পতিবার বাদ এশা আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্ত করা হয়।

মাহফিল নাও হতে পারে আশংকার মধ্যে অনেকে সফর প্রোগ্রাম বাতিল করলেও মাহফিলের ২য় দিন আখেরী মুনাজাতে ২ বর্গকিলোমিটার ব্যাপী বিস্তৃত মাঠে কোথাও তিল ধারণের ঠাই ছিলনা। বাদ মাগরিব জিকির ও তা’লীমের পরই শুরু হয় আখেরী মুনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা। মাহফিলে আগত মুসল্লীদের যাওয়ার সুবিধার্থে প্রথম ওয়াক্তে এশার নামাজ আদায় করে মীলাদ-ক্বিয়ামের মাধ্যমে আখেরী মুনাজাতের কার্যক্রম শুরু হয়।

আখেরী মুনাজাতের পূর্বে ছারছীনা দরবার শরীফের হযরত পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মা.জি.আ.) সকলকে তওবা পড়ান ও বাইয়াত করান। বাইয়াত পরবর্তী নসীহতে তিনি সকলকে একজন তরীকতপন্থী হয়ে ইসলামী জিন্দেগী যাপনের পরামর্শ দেন।

হযরত পীর ছাহেব কেবলা বলেন- আমরা আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর অসীম দয়ায় আমরা দুনিয়ায় এসেছি ও বেঁচে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহর নিয়ামতরাজী অবলীলায় ভোগ করে চলছি। দুনিয়ায় আমরা চিরদিন থাকবো না। আখেরাতে আমাদিগকে আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়িয়ে তার দেয়া নেয়ামতের হিসাব দিতে হবে। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশিত পথেই আমাদেরকে চলতে হবে।

মাহফিলের ২য় দিন সকালে বাদ এশরাক হযরত পীর ছাহেব কেবলার বড় ছাহেবজাদা ছারছীনা দরবার শরীফের ভক্ত-মুরীদানের আক্বীদা, আমল ও মুয়ামালাত বিষয়ে নির্দেশনা মূলক দীর্ঘ ওয়াজ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ মাহফিলে করোনা ভাইরাসের এ ঝুঁকির সময়ে ক্ষণে ক্ষণে তওবা এস্তেগফার করে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর দরবারে সকল বালা-মুসীবত থেকে রক্ষা পেতে মুনাজাত করা হয়ে। মাহফিলে দরবার শরীফের বিশিষ্ট আলেম ও ওয়ায়েজগণ আলোচনা করেন। আলোচনাকারীদের মধ্যে ড. মাওঃ মোঃ কাফীলুদ্দীন সরকার ছালেহী, মাওঃ মোঃ রূহুল আমিন ছালেহী, মাওঃ মাহমুদুল মুনীর হামীম, মাওঃ মোঃ রূহুল আমীন আফসারী, মাওঃ মুফতী হায়দার হুসাইন, মাওঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ আল মাহমুদ, মাওঃ মোঃ বোরহান উদ্দিন ছালেহী প্রমুখ ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *