ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন প্রকৃতির কাছে

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : শহুরে যান্ত্রিক মানুষগুলো ইদানিং ঈদের ছুটিতেও নানান ব্যস্ততার অজুহাতে দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন না। কিন্তু মন পড়ে থাকে ঠিকই নিবীড় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। তাদের জন্যই ঢাকার কাছে নজরকাড়া এক প্রকৃতির খোঁজ দিচ্ছেন মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম।
কংক্রিটের আবর্জনায় ঢাকার আশেপাশে, যে ক’টা জায়গায় নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো টিকে রয়েছে, তার মধ্যে আশুলিয়া অন্যতম। সুযোগ পেলেই মটর বাইকে ঢুঁ মেরে আসি। গত কিছুদিন আগে ফেসবুক ফ্রেন্ড মাসুম পারভেজ থেকে খোঁজ পেলাম তালতলার। খবর পেতে দেরি, যেতে দেরি নাই।

আমি আর জসিম ছুটলাম। সাভার পেরুতে পারলে, বাইক চালাতে আর তেমন বিরক্ত লাগে না। আরিচা মহাসড়ক ছেড়ে এবার বিশমাইল সড়কে। চলছে বাইক পঙ্খীরাজের গতিতে। বিশমাইল পথের শেষে আশুলিয়া সড়কের অপর পাশেই বাইক ঢুকিয়ে দেই ইয়ারপুর ইউনিয়নে। অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাই তৈয়বপুর গ্রামে। প্রথমেই সবুজ শ্যামল গ্রামের পরিবেশ দৃষ্টি কেড়ে নেয়। স্থানীয়দের দেখানো মতে, এগিয়ে যাই বেড়িবাঁধের দিকে। পুরো গ্রাম জুড়েই প্রাচীন তালগাছের ছড়াছড়ি। বাইক এবার বেড়িবাঁধ। এবরোথেবড়ো সরু পথ। বাঁধের দুপাশেই সারি সারি তালগাছ। ছলাৎ ছলাৎ পানির আওয়াজ। কিছু কিছু তালগাছ এমনভাবে জন্মলগ্ন হতেই বাঁকা হয়ে বড় হয়েছে, যেন দূর থেকে দেখে মনে হয়, জীবন্ত তালগাছগুলো পানিতে ভাসছে। এক কথায় চমৎকার।

বাইক রেখে আমরা এবার হেঁটে বেড়াই। গাছ থেকে নামিয়ে আনা গাছিদের কাছ থেকে কিনে তালের আটি খাই। সে এক অপার্থিব সুখ। বাঁধের শেষ প্রান্তে খেয়া পার হলেই রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা। সূর্যাস্তের নজরকাড়া দৃশ্য। চাইলে ট্রলার দিয়ে সচ্ছ টলটলে পানিতে ভেসে বেড়ানোও যাবে। ঢাকার পাশেই এরকম টিকে থাকা প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের ভিড়ে, আপনিও একটা বিকেল কাটিয়ে আসতে পারেন স্বাচ্ছন্দে।

যাবেন কি ভাবে: ঢাকার গুলিস্তান, গাবতলী, সায়েদাবাদ সহ আরো অনেক বাস স্ট্যান্ড হতেই আশুলিয়ার জিরাব বাস স্টপিজে যাওয়া যাবে। তবে মজাপাবেন মটরবাইকে গেলে।

ছবির ছৈয়াল: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *