ঈদ করতে এসে বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না যুবলীগ নেতা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে এসেছিলেন পৈত্রিক ভিটা গ্রামের বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের সাথে ঈদ উদ্যাপন করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু পারিবারিক দ্ব›দ্ব বাঁধ সাধে তাতে। স্বজনরা বাঁশ দিয়ে বাড়ির প্রবেশ মুখ ও চারপাশ বন্ধ কওে রাখায় ঢুকতে পারেনি নিজ বাড়িতে। এক সময়ের প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার এমন করুণ দৃশ্যে বর্তমান নেতা-কর্মীরাও এগিয়ে আসেননি। পরে আবার তিনি ঢাকা ফেরত যেতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগি মোখলেছুর রহমান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকুট ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, গত ১৯ জুলাই সোমবার ঢাকা থেকে বাড়িতে আসছিলাম ঈদ করার জন্য। এসে দেখি ঘরবাড়ির চারপাশে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছেন আমার বড় ভাই আব্দুল মতিন ও তার ছেলেরা। বেড়া খুলতে অনেকের সহযোগিতা চেয়েছি, কিন্তু তাদের মারমুখি আচরণের কারণে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। নিরূপায় হয়ে ঢাকায় ফিরে আসি। আমার বড় ভাই আব্দুল মতিন ভাই-বোনদের পৈত্রিক সম্পত্তি তার স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছে। অথচ আমি পরিবার নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে পারিনি। গরু কেনার টাকা পকেটে ছিল, কিন্তু বাজারে যাওয়ার সাহস পাইনি। বাড়িতে ঢুকলে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি-ধমকি দেয় তারা। প্রতিবেশিদের কাছ থেকে শুনেছি, আমার ঘরের মালামাল তারা নিয়ে গেছেন। সাংগঠনিক রাজনীতি করে ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ নেতা হয়েছি। আমারই যদি এমন করুণ দশা হয়, তাহলে অন্যদের কি হবে! প্রশাসন ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে পারতাম।’
মোখলেছুর রহমানের বড় ভাই অভিযুক্ত আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমাদের নিজের জায়গায় আমরা বেড়া দিয়েছি। সে যদি বাড়িতে ঢুকতে না পারে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। মানবিক দিক থেকে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটি খুলে দিতে পারতেন এমন প্রশ্নে? তিনি বলেন, তাঁর সাথে জায়গা জমি নিয়ে হিসাব নিকাশ আছে। তাই তার ব্যাপারে মানবিক হতে পারি নাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘এ বিষয়ে একাধিকবার মিমাংসা করা হয়েছে। কিন্তু মতিন ও তার ছেলেরা বৈঠকে মিমাংসা মেনে বাড়িতে এসে এক সপ্তাহ পরে উল্টে যায়। তারা খুব উশৃংখল হওয়ায় স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত থাকে।’
বড় ভাই আব্দুল মতিন জানান, সম্প্রতি ১০ গ্রামের সাহেব সর্দারদের নিয়ে এই জায়গা সংক্রান্ত্র মিটিং হয়েছে। সমাধানও হয়েছে।
বাঙ্গরা বাজার থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ নজরুল বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি আমাদের বড় ভাই। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, যুবলীগ নেতা মোখলেছুর রহমান লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *