এক গণমানুষের শিল্পীর বিদায়

স্টাফ রিপোর্টার: ফকির আলমগীর। এক গণমানুষের শিল্পী। একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা। করোনা এই প্রখ্যাত শিল্পীকেও কেড়ে নিল। শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা ফকির আলমগীরের স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, একজন কণ্ঠযোদ্ধা, গণমানুষের শিল্পী হিসেবে ফকির আলমগীর মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে ফকির আলমগীরকে ‌’গার্ড অব অনার’ দেয়া হয় এবং প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নেয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

ফকির আলমগীরের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া মাটির মসজিদে। পরে তালতলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ফকির আলমগীর করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। এরপরও ক’দিন আগে জ্বর ও খুসখুসে কাশি শুরু হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি করোনা পরীক্ষা করান। ফল পজেটিভ আসে। সেদিনই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তাকে গ্রীন রোগের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়।। পরে শিল্পীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যেই শনিবার রাতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

১৯৫০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফকির আলমগীর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এই শিল্পী। পরে গণসংগীত নিয়ে কাজ করেন তিনি।

ফকির আলমগীর ছিলেন গণসংগীতের প্রবাদ পুরুষ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কিছু গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে’ গানটি শিল্পীকে জনপ্রিয়তা উচ্চশিখরে নিয়ে যায়। এই গানটি এখনো বহু মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।

ফকির আলমগীর ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। গানের পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন এই শিল্পী। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয়পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

ফকির আলমগীর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক প্রদান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *