করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে দিনাজপুর, প্রতিরোধে ৩টি কমিটি গঠন

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে: হিলি স্থলবন্দর, বিরল স্থলবন্দর ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চীনা নাগরিক কর্মরত থাকায় দিনাজপুরে করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে। একই সাথে ভারত-মায়ানমার-ভুটান প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষনিক তৎপর এবং নজরদারি রয়েছে। জেলার ১৩ উপজেলার হাসপাতাল-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নজরদারি এবং এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসুলেটেড ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। পৃথক ৩টি কমিটি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্বক্ষনিক খোজ-খবর নিচ্ছেন।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবু রায়হান (২৮) নামে এক ছাত্র গত ৩১ জানুয়ারী ভারত হয়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আবু রায়হানের বাডি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার থানা পাড়া গ্রামে। হিলি স্থলবন্দরে স্কেনিং শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের অধিনে আবু রায়হানকে তার বাড়িতে হোম আইসুলেটড রুমে রাখা হয়। দিনাজপুর সিভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, বিরামপুর পৌর সভার মেয়র লেয়াকত আলী টুটুল ও বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান সোমবার আবু রায়হানকে দেখতে যান। আবু রায়হান বর্তমানে নিরির পর্যবেক্ষনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন, দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ১৩ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেকসের আবাসিক মেডিকেল অফিসারদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্বক্ষনিক জেলার মনিটরিং কোন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগ নিয়ন্ত্রন ঢাকার সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়াও ঢাকার হেড অফিসের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা পাচ্ছি। ল্যান্ড পোর্টগুলোতে অন্যদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্কেনিং করছে মেডিকেল টিম, চীন থেকে আসা নাগরিকদের জ্বর-কাশি-সর্দি-স্বাসকষ্ট সন্দেহ হলে ১৪ দিন আইসোলেশন ওয়াড়ে ভর্তি করছেন। দিনাজপুর সিভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস জানান, ্এখন পর্যন্ত ঝুকিপূর্ণ কোনো রোগি পাওয়া যায়নি।

এদিকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে চীন থেকে আসা ৫ চীনা কর্মকর্তাকে খনির ভিতরের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি তারা চীন থেকে কর্মস্থল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আসেন। দিনাজপুর সিভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস জানান, চীন থেকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আসার পর চিঠির মাধ্যমে তাকে জানানো হয়েছে। করানো ভাইরাস আছে কি না তা জানতে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। করানো ভাইরাস প্রতিরোধে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। দিনাজপুরের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কিাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি ও একস এমসি প্রতিষ্ঠানে অধিনে চীনের পাঁচশতাধিক চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছেন।

Check Also

করোনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোচ্চ সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না এই …

উহানের হাসপাতাল পরিচালকের প্রাণও কেড়ে নিল করোনা

অনলাইন ডেস্ক : প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *