ননা বৈদ্যর রাজপ্রাসাদ

কাঠমিস্ত্রী থেকে কোটিপতি ননা বৈদ্য কাহিনি

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে: মানুষকে সংকট থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাবিজ আর ঝাড়ফুক করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রাউজানের ননা বৈদ্যকে আটকের পর রোববার রাত ৯টায় এক
বছরের সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এহেসান মুরাদ।

স্থানীয়রা জানায়, কিশোরকাল থেকে কাঠমিস্ত্রি হিসাবে ননা মিয়া পরিচিত। হলদিয়ার একটি বাজারে বসে আসবাবপত্র তৈরির কাজ করতো। পরে কিছু মানুষ কাঠ মিস্ত্রি ননা মিয়াকে বৈদ্য (ওঝা) হিসেবে প্রচার করে। এলাকার লোকজনের দাবি- ননা মিয়ার প্রচারণায় বিভিন্ন
এলাকায় রয়েছে তার সহযোগীরা। এসব লোক প্রচার করে- সমস্যাক্রান্ত মানুষকে অলৌকিকভাবে মুক্ত করার ক্ষমতা ননা মিয়ার আছে। তাদের প্রচারণায় ননা মিয়ার কাছে আসতে থাকে সমস্যাক্রান্ত বিভিন্ন এলাকার মানুষ। যারা প্রচার করত তারাও তার থেকে মাসােহারা নিত। ননা বৈদ্য তাবিজ আর ঝাড়ফুক করে সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে। বছরের পর বছর এ পন্থায় টাকা রোজগার করে ননা মিয়া কোটিপতি হয়ে যায়। ধানী জমি ভরাট করে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তোলে দৃষ্টিনন্দন রাজপ্রাসাদ। পাকা দেয়ালের বেষ্টনীর ভেতর তৈরি তার বাড়িতে রয়েছে সুইমিং পুল, মাঝে
লাগানো হয়েছে পানির ঝর্ণা। গত পাঁচ বছর থেকে ননা বৈদ্য তার পৈতৃক কুঁড়েঘর ছেড়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আছেন তার স্বপ্ন কুঠিরে।

রাউজান থানার এসআই নুরুন্নবী জানান, ননা বৈদ্যকে বেলা একটার দিকে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে ননা বৈদ্যর বিশাল একটি সিন্ডিকেট সবসময় তার পক্ষে এলাকায় কাজ করে তাকে আড়াল করে রাখত। তারা ননা বৈদ্য থেকে টাকা-পয়সা সুযোগ-সুবিধা নিতো।

হলদিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মরহুম আবদুছ সমদ মিস্ত্রির ছেলে ননা মিয়া প্রকাশ ননা বৈদ্যর (৪৮) চলাফেরা ছিল খুব সাদাসিধে। প্রতিদিন কয়েকশ নারী পুরুষ ভিড় জমাত তার রাজপ্রাসাদে। এসব মানুষ বহু বছর যাবত তার প্রতারণার শিকার হয়। অক্ষরজ্ঞানহীন এ বৈদ্যর নামে বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ ও নগদ টাকা।

এদিকে ননা বৈদ্যকে শনিবার রাতে থানা পুলিশ আটক করার পর রোববার রাতে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান ও সোমবার জেলহাজতে প্রেরণ করায় বৈদ্য বিরোধী হাজারো মানুষ থানা প্রসাশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে ননা বৈদ্য আটক হওয়ার খবর জেনে হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা গফুর মোহাম্মদ তালুকদার বাড়ীর মো. এজহারের পুত্র বৈদ্য নুরুল হুদা গা ঢাকা দিয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আটক হওয়া পূর্বগুজরা এলাকার মনোরঞ্জন বৈদ্য প্রকাশ মনা বৈদ্য (৬৫) ও পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনী এলাকার টিটু বৈদ্য (৫৫)কেও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এ দুজনকেও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, রাউজানে কোনো অন্যায়কারী থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, মাদক, ইয়াবা, সন্ত্রাস সহ যত প্রকারের ভন্ড বৈদ্য রয়েছে সকলকে আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ননা বৈদ্যকে
ইউনিয়ন বোর্ডে ডেকে এনে এসব ভন্ডামি কাজ না করার জন্য কয়েকবার বলেছি। কিন্তু সে কথা রাখেনি। তিনি আরো বলেন, হলদিয়ায় কোনো ধরনের ভন্ড বৈদ্য থাকতে পারবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *