চেয়ারম্যান মামুনুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব

কার চাল কে খায়!

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকে:
মামুনুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব। তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা ৭নং শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো শেষ নেই। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন খাতের অর্থসহ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা বিতরণের নামে আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়েছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ ইউপি সদস্য।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারি ইউপি সদস্যরা হলেন, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জগাই রায়, ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ. ছাদেক সরকার, ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান, ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজেদুর রহমান সাজু ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম।

গত সোমবার (২ আগস্ট) তারিখে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দাখিলকৃত ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ১২ হাজার বসতবাড়ীর হোল্ডিং কর এবং শিল্প-কলকারখানারসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ফিসহ অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আদায়কৃত আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা পকেটে ভরেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব।

একইভাবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি, বিভিন্ন প্রত্যয়ন ও ওয়ারিশ সনদের অর্থ নিজেই আদায় করে সেই অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন। ফেলে রেখেছেন বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, ভূমি উন্নয়ন করসহ অন্যান্য সরকারি পাওনা। চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়গুলো ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদেরকে জানানোর পরও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান আরো বেপরোয়া হয়েছেন। তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো যাইচ্ছে তাই করছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরে দুই হাজার ৫৪ জনকে ভিজিএফ ও ৫০০ জনকে জনপ্রতি প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৫০০ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন।
একইভাবে উপজেলা কমিটিতে অনুমোদিত ভিজিডি তালিকাভুক্ত প্রায় ২০০ জন দুস্থের নাম বাদ দিয়ে সেই চালও তিনি আত্মসাত করেছেন। এসবের প্রতিবাদ করায় গত ৪ জুলাই ইউপি সচিবকে লাঞ্ছিত করে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন ওই চেয়ারম্যান।

এদিকে শিবনগর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের মৃত নয়মদ্দিন আলীর ছেলে আনছার আলী তার স্ত্রী মেরিনা বেগমসহ অন্য ৫ জন দুস্থ নারীর ভিজিডি তালিকায় নাম থাকলেও তাদের কার্ড চেয়ারম্যান নিজ হাতে রেখে চাল আত্মসাত করছেন এমন অভিযোগ এনে গত সোমবার (২ আগস্ট) ইউএনও ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।

চাল বঞ্চিত নারীরা হলেন, মেরিনা বেগম (সিরিয়াল নং-৩৫), হানিফা বানু (সিরিয়াল নং-৩৩), নাজমা বেগম (সিরিয়াল নং-৩৮), খন্দকার তানিয়া (সিরিয়াল নং-৩২), আলিফা নূর (সিরিয়াল নং-২৯) ও মোছা. রুজিনা। একইভাবে ৩ মে ও ৩ জুন পৃথক পৃথকভাবে তালিকাভুক্ত ১৩ জন দুস্থ নারী একই অভিযোগ এনে ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব অর্থ আত্মসাতসহ ইউপি সদস্যদের আনীত অভিযোগসহ অন্য নারীদের অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, ভিজিডি তালিকায় ১০ ভাগ সংশোধনের ক্ষমতা থাকায় সেটিই করা হয়েছে। অবশিষ্ট তালিকাভুক্তদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহারের ৫০০ টাকা বিতরণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ইউএনও হাতে দিয়ে ট্যাগ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীতা মন্ডল বলেন, উপজেলা কমিটি ভিজিডি’র ৪৪০ জন উপকারভোগীর তালিকা অনুমোদন দিলেও নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যান অর্ধেক উপকারভোগীর নামই বাদ দিয়েছেন। উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণে গড়িমসি করায় অনেক চাপাচাপি করে তার (রীতা মন্ডলের) উপস্থিতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে দেখে ১৩৪ জনকে চাল বিতরণ করতে পারলেও চেয়ারম্যানের অসহযোগিতার কারণে অন্যদের চাল বিতরণ করতে পারেননি। অবশিষ্ট চালের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি অভিযোগ তদন্তে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন গত রবিবার (১ আগস্ট) জমা দিয়েছেন। এছাড়াও ইউপি সদস্যদেরসহ ৬জন উপকারভোগীর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *