কুরআনের নির্দেশের প্রতি আনুগত্যের নমুনা

আবদুল হালিম খান : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (র.) বর্ণনা করেন, যখন এই আয়াত অর্থাৎ ‘তোমাদের অন্তরে যা আছে, প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো সর্বাবস্থায় আল্লাহআয়ালা তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন।’ (সুরা আল বাকারাহ, আয়াত ২৮৪) অবতীর্ণ হলো।

এ আয়াত শুনে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহ আনহুম অস্থির হয়ে গেলেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরজ করলেন ইয়া রাসুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এতদিন আমরা মনে করতাম যে, আমাদের ইচ্ছাকৃত কাজেরই শুধু হিসাব হবে। মনে যেসব অনিচ্ছাকৃত কল্পনা আসে, সেগুলোর হিসাব হবে না। কিন্তু এ আয়াত দ্বারা জানা গেল যে, প্রতিটি কল্পনারও হিসাব হবে। এতে তো শাস্তির কবল থেকে মুক্তি পাওয়া সাংঘাতিক কঠিন মনে হয়।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতের সঠিক উদ্দেশ্য জানতেন কিন্তু উক্ত আয়াতে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাপকতার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলা সমীচীন মনে করলেন না বরং ওহির অপেক্ষায় থাকলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে আপাতত আদেশ দিলেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে নির্দেশ আসে তা সহজ হোক কিংবা কঠিন, মোমিনের কাজ হলো তা মেনে নেওয়া। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্রও দ্বিধা করা উচিত নয়। আল্লাহতায়ালার প্রত্যেক আদেশ শুনে আমাদের একথা বলা উচিত : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার নির্দেশ শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রভু! যদি নির্দেশ পালনে আমাদের কোনো ত্রæটি বা ভুল হয়ে থাকে, তবে তা ক্ষমা করুন। কেননা, আমাদের সবাইকে আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত-২৮৫)।
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহ আনহুম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশমতো কাজ করলেন। যদিও তাদের মনে এ খটকা ছিল যে, অনিচ্ছাকৃত কল্পনা ও কুচিন্তা থেকে বেঁচে থাকা খুবই কঠিন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এ দুটি আয়াত নাজিল করেন। (মুস্তাদরাক হাকেম : ৩১৩২)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *