চাকরির প্রলোভনে দিনের পর দিন ‘ধর্ষণ, প্রবাসী গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক: সাভারে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে দিনের পর দিন এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ইতালি ফেরত এক প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম সাদিকুর রহমান সেলিম (৫০)। করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলে ইতালির ভেনিস থেকে দেশে ফিরে আটকা পড়েন তিনি।

আজ সোমবার দুপুরে আত্মগোপনে থাকা ওই প্রবাসীকে কৌশলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগী ওই নারী সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে বিয়েরও প্রস্তাব দেন ওই প্রবাসী। সেটা না মানায় একপর্যায়ে তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নানাভাবে নাজেহাল করেন তিনি। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারী গতকাল রোববার রাতে ফোন করেন জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ। সাভার মডেল থানার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার তৎপর হয় থানা পুলিশ।

আসামির গ্রেপ্তার দাবিতে আজ সোমবার সকাল থেকেই ওই প্রবাসীর বাসার সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী নারী। এদিকে মামলার খবর পেয়ে আজ সোমবার সকাল থেকেই আত্মগোপনে চলে যান ওই প্রবাসী। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে তৎপর হয় সাভার মডেল থানা পুলিশ। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (এসআই) নাজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই প্রবাসীর সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের বাড্ডা মানিকগঞ্জ সমিতি রোডে তার বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালায়। তাকে না পেয়ে কৌশলের আশ্রয় নেয় পুলিশ। তার স্বজনদের দিয়ে ফোন করিয়ে আনা হয় বাসায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তার স্বামী পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। ফরিদপুরের একটি গ্রাম থেকে সাভারে আসার পরই করোনাভইরাসের প্রাদুর্ভাবে থমকে যায় তাদের জীবন। স্বামীর আয় না থাকায় নিজেই কাজের সন্ধানে বের হলে এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচয় হয় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের ইতালি ফেরত প্রবাসী সেলিমের সঙ্গে। চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে দিনের পর দিন তার বহুতল ভবনের সাত তলায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ এই নারীর।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রতিবাদ করার পর থেকে তিনি প্রভাবশালীদের ভয়-ভীতি ও হুমকির মুখে এলাকা ছেড়ে চলে যান আশুলিয়ায়। এর মধ্যে নানাভাবে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত এবং নাজেহাল করায় শেষমেষ তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর শরণাপন্ন হন।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রবাসী সাদিকুর রহমান সেলিম এ বিষয়ে কোনো সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।’

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আসামিকে আদালতে চালান করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *