ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি বাণিজ্য!

গাজী মো. গিয়াস ‍উদ্দিন বশির, ঝালকাঠি থেকে: ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে
প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা আরজু মাসের পর মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির
কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড স্থবির
হয়ে পড়েছে। বার্ষিক পরীক্ষা ও নতুন ভর্তির সময়েও প্রধান শিক্ষকের
অনুপস্থিতির কােণে অলিখিত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ফরিদ লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে বেশ কিছু ছাত্রীকে অবৈধ ভর্তির ঘটনা শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে জানাজানির পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে প্রধান
শিক্ষিকা আরজু ২৮ দিন পর ২২ জানুয়ারী কর্মস্থলে আসেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির (জেলা প্রশাসক) নাম ভাংগিয়ে উক্ত দুই শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ওদিুর্নীতির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছ।

বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ৫ এপ্রিল ২০২১ ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিক পদে হোসনে আরা
আরজু যোগদানের পর থেকে চলতি ২২ জানুয়ারী পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিন বিদ্যালয়ে আসেন। মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রকার ছুটি বা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবগত করেনি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষিকার অনুপস্থিতিতে নিয়মানুযায়ী তার
পরবর্তী জেষ্ঠ শিক্ষককে লিখিতভাবে দায়িত্ব দেয়ার বিধান থাকলেও তিনি
বিভাগীয় নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না। বরং বিধিবিধান লংঘন করে তিনি
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের দোহাই দিয়ে দ্বিতীয় জেষ্ঠ শিক্ষক ফরিদ হোসেনকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে কেউ মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষিকা আরজু ও
শিক্ষক ফরিদ মিলে জেলা প্রশাসকের কানভারি করে তার বিরুদ্ধে নানারকম চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করে থাকেন। যে কারণে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা কারো কাছে মুখ খুলতে বা অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না বলে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন। এরফলে ঝালকাঠির মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের এ প্রধান শিক্ষাপিঠ সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করলেও প্রতিকারের যেন কেউ নেই।

একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষক অভিযোগ করেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শুধু তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি ক, খ ও দিবা শাখায় ৬০জন করে মোট ১৮০জন এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে দিবা শাখায় ৬০জন শিক্ষার্থী ভর্তির কোটা নির্ধারিত করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষিক আরজু অনুপস্থিত থেকে অলিখিত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ফরিদকে দিয়ে বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির প্রতিটি শাখায় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির একটি শাখায় ৬০টি কোটার স্থলে ৬২/৬৩জন করে ভর্তি করে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগে আরো জানা যায়, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই দুই শিক্ষক মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ৪র্থ, ৫ম, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির প্রভাতী ও দিবা শাখায় বেশ কিছু ছাত্রীকে ভর্তির সুযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে এ শ্রেণিগুলোর প্রতিটি শাখায় ৬০জনের স্থলে ২জন থেকে ৬জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী বেশি রয়েছে। এসব শ্রেণির ক্লাসটিচারদের হাতে বিষয়টি ধরা পরলে তাদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আলাপ আলোচনার সুযোগে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হ।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা আরজুর কাছে জানতে চাইলে ‘তিনি প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা অফিস করেন বলে দাবী করেন। চলতি শিক্ষা
বর্ষে ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির প্রতি শাখায় ভর্তির কোটা কয়টি জানতে চাইলে তিনি ‘এটা সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে’ বলেন। তিনি বলেন, আমাদের ভর্তি শেষ হয়ে গেছে, বলতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে বলবো। আপনি জানতে চাইবেন কেন? কোটার অতিরিক্ত ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা লিখে
দিন, আমি জবাব দিলে কর্তৃপক্ষকে দিবো’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *