ডোমারে সেতু নির্মাণে অনিয়ম

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, ডোমার (নীলফামারী) থেকে : নীলফামারীর ডোমারে সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেতু নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু কালাম আজাদকে অবগত করে। তিনি ঘটনাস্থলে এলে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে জানান।

জানা গেছে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পাটোয়ারী পাড়া হতে পূর্বে রেললাইন যাওয়ার রাস্তায় মোকছেদের বাড়ির নিকট দূর্যোগ ব্যপস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৮-২০১৯ ইং অর্থবছরে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য ধেদাই কুড়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প গৃহীত হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪শ’ ১ টাকা। নীলফামারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমদাদুল হক মিলন উক্ত কাজটি বাস্তবায়ন করছে। শুরুতেই এই প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোহাইমিনুলকে ম্যানেজ করে নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। শতভাগ ভাঙ্গা পাথর ও দেবীগঞ্জ সেন্ট ব্যবহার করার কথা থাকলেও নিয়ম মেনে কাজ করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে এলাকার সাদেকুল ইসলাম জানান, মাঝের আরসিসি পার্টিশন শেরওয়াল ঢালাইয়ে রডের মধ্যে ডগপিন দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি এবং ঢালাইয়ে ভাইব্রেশন ব্যবহার করা হয়নি। ফলে ওয়ালে বড় বড় গর্তের তৈরি হয়েছে। রাজমিস্ত্রি বলরাম রায় জানান, আমরা এলাকাবাসী এই সেতরু ওপর দিয়ে চলাচল করবো। ঠিকাদার এভাবে দায়সারা কাজ করলে বর্ষার সময় আমাদের চলাচলের সমস্যা হবে, তাই আমরা চাই সরকারী সিডিউল মোতাবেক যেন কাজটি সম্পুর্ণ হয়।

সোনারায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, কাজের মান খারাপের বিষয়ে এলাকাবাসী অফিস সহকারী তত্ত¡াবধায়ক মোহাইমিনুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে গালিগালাজ করেন এবং বলেন, আপনারা কাজ সমন্ধে কি বুঝেন। এবিষয়ে ঠিকাদার এমদাদুল হক মিলনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিলন যেখানে যায় সেখানেই ভালো কাজে করে। আর আপনারা কোনো কিছু জানতে চাইলে নীলফামারীতে আসেন। সেতুর কাজের অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *