ড্র করেও সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশে কঠোর নিয়ম এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সে সবকিছু উপেক্ষা করে বাংলাদেশ বনাম নেপালের ফুটবল খেলা দেখতে গুলিস্তানে স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হবার পরও দর্শকদের যেন আক্ষেপ নেই। কেননা আগের ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবলাররা। সে সুবিধা নিয়েই আজ গোলশূন্য ড্র করে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ওদিকে, প্রথম ম্যাচের পরই পুরো ফুটবল দল এবং স্টাফদের করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করানো হয়। সে পরীক্ষায় সবাই উতরে গেলেও আটকে যান কোচ জেমি ডে। তার করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু করার আগে আবারও তার কোভিড পরীক্ষা করানো হয়। সে সময়ও রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাকে ছাড়াই খেলতে নামে বাংলাদেশ দল। জেমি ডে-এর পরিবর্তে সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস দলের দায়িত্ব নেন।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে দু’টি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। পরিবর্তনটা মূলত রক্ষণভাগেই। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকুর জায়গায় একাদশে ঢুকেন অভিজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম রানা ও রক্ষণভাগে রিয়াদুল হাসানের পরিবর্তে দলে আসেন ইয়াসিন খান। আগের ম্যাচে গোল পাওয়া সুফিলকে দ্বিতীয় ম্যাচের মূল একাদশে রাখা হয়নি। বাংলাদেশ টিম ম্যানাজমেন্ট এখনই ‘উইনিং কম্বিনেশন’ ভাঙতে চায়নি, তাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নেপাল। তবে বাংলাদেশ পায় এগিয়ে যাওয়ার সহজ দু’টি সুযোগ। দু’টিই নষ্ট করেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। ১৮ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে বারের উপর দিয়ে মারেন তিনি। ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে সাদউদ্দিনের কাছ থেকে ডান প্রান্তে বল পেয়ে দারুণ এক ক্রস করেন আগের ম্যাচের গোলদাতা নাবীব নেওয়াজ জীবন। কিন্তু সেই ক্রসে পা লাগালেও তাকে গোলে পাঠাতে পারেননি সুমন। এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষে সুমনের সময়ও শেষ হয়। তার বদলে দ্বিতীয়ার্ধে নামেন আগের ম্যাচের গোলদাতা মাহবুবুর রহমান সুফিল। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটে ম্যাচে নিজেদের প্রথম সুযোগ পায় নেপাল। ডান প্রান্ত থেকে দারুণ এক ক্রস পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি নেপালি ফরোয়ার্ডরা। এরপর টানা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ৫৭ মিনিটে সাদ বক্সে ঢুকে পড়লে, নেপালি কিপার লিম্বু সুইপার কিপার হিসেবে আটকে দেন তাকে। পরের দুই মিনিটে সুফিল ও জীবন টানা দুইবার বক্সে ঢুকে পড়লেও গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে জীবনের বাড়ানো বল নিয়ে পোস্টে ঢুকেন সুফিল। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ক্যাটব্যাক করে জীবনকে। ফাঁকায় দাঁড়ানো জীবন তাতে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে অরক্ষিত গ্যালারি থেকে নেমে আসেন এক দর্শক। খেলা চলাকালীন সময়ে পূর্ব গ্যালারি থেকে নেমে আসা সেই দর্শক মাঠে ঢুকে জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে সেলফিও তোলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিনে নেপাল তাদের মরণ কামড় দেয় বাংলাদেশের রক্ষণে। ম্যাচের শেষ চার মিনিটে স্বাগতিকদের একেবারে দিশাহারা করে ফেলে নেপালের আক্রমণ ভাগ। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েন তপু-রহমতরা। এতেই ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বিপদ ডেকে আনেন রহমত মিয়া। কিন্তু সেই ফ্রিকিকে কাজের কাজ করতে পারেননি নেপালের অধিনায়ক ভারত খাওয়াজ। পরের মিনিটে নেওয়াজ শ্রেষ্ঠার হেড সাইড পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

এবার সিরিজ জিতে গেলেও সামনে বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামীকাল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য জাতীয় ফুটবল দলের কাতার পাড়ি জমানোর কথা রয়েছে। সে যাত্রায় কোচ জেমি ডে-এর ও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *