তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা যায়েজ না

আবদুল হালিম খান : হজরত আয়েশা (র.)-এর নিকট বর্ণনা করা হলো যে, তিনি কোনো একটি বস্তু কাউকে দিয়েছিলেন, তা বিক্রি কিংবা দান করার ব্যাপারে।
আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের বললেন, আল্লাহর কসম, হয় আয়েশা (র.)-এর হতে বিরত থাকবেন, না হয় আমি তার উপর কঠোরতা অবলম্বন করব।
(একথা শুনে) আয়েশা (র.) জিগ্যেস করলেন, সত্যিই কি সে এ ধরনের কথা বলেছে?
লোকেরা বলল, হ্যাঁ।
আয়েশা (র.) বললেন, আল্লাহর নামে শপথ করছি আমি ইবনে জোবায়েরের সঙ্গে কখনও কথা বলব না।
এ বিচ্ছেদ যখন দীর্ঘায়িত হলো, তখন ইবনে জোবায়ের আয়েশা (র.)-এর নিকট সুপারিশ প্রেরণ করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ, আমি কখনও কারও সুপারিশ কবুল করব না। আমি আমার শপথ ভঙ্গ করব না।
যখন এ বিষয়টি ইবনে জোবায়েরের উপর বিশেষ কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়াল, তখন তিনি মেসওয়ার ইবনে মাখবামাহ ও আবদুর রহমান ইবনে আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুসের সঙ্গে কথা বললেন, এ দুজন বনি জোহরার লোক ছিল।
ইবনে জোবায়ের এ দুজনকে বললেন, তোমাদের উভয়কে আল্লাহর কসম দিচ্ছি যে, আমাকে তোমরা আয়েশা (র.)-এর কাছে নিয়ে চলো। কেননা, আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে মানত করা তার জন্য বৈধ ছিল না।
অতঃপর মেসওয়ার ও আবদুর রহমান স্ব স্ব চাদর গায়ে দিয়ে ইবনে জোবায়েরকে সঙ্গে নিয়ে চললেন। শেষ পর্যন্ত উভয়ই আয়েশা (র.)-এর নিকট ভেতরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলেন।
উভয়ই বললেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। আমরা সকলে কী ভেতরে আসতে পারি?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, সকলেই এসে যাও।
আয়েশা (র.) কিন্তু জানতেন না যে, এ দুজনের সঙ্গে ইবেনে জোবায়েরও আছেন। যখন সকলে ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনে জোবায়ের পর্দার ভেতরে ঢুকে গেলেন। আয়েশা (র.)-কে জড়িয়ে ধরে তাকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। মেসওয়ার এবং আবদুর রহমানও তাকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন যে, ইবনে জোবায়েরের সঙ্গে কথা বলুন। তার ওজর কবুল করুন। তারা দুজন বললেন, আপনি তো জানেন যে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম-কালাম ও দেখাসাক্ষাৎ বন্ধ করে দিতে নিষেধ করেছেন। কেননা তিনি বলেছেন, কোনো মুসলমানের পক্ষে তার মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি (রাগ করে) দেখাসাক্ষাৎ ও সালাম-কালাম বন্ধ রাখা না জায়েজ।
যখন তারা দুজন এভাবে আয়েশা (র.)-কে বুঝালেন এবং বারবার তাগিদ করতে লাগলেন, তখন তিনিও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের দুজনকে বুঝাতে লাগলেন, আমি (কথা না বলার) মানত ও শপথ করে ফেলেছি এবং মানত অনেক কঠিন ব্যাপার;
কিন্তু তারা দু’জন একাধারে তাগিত দিতেই থাকলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ইবনে জোবায়েরের সঙ্গে কথা বলিয়েই ছাড়লেন।
অতঃপর আয়েশা (র.) তার কসমের কাফফারা বাবদ চল্লিশটি গেলাম আজাদ করে দিলেন।
এরপর যখনই তিনি এ মানতের কথা মনে করতেন সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে দিতেন। এমনকি চোখের অশ্রুতে তার সারাটি ওড়না পর্যন্ত ভিজে যেত। (সহিহ বোখারি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *