দিবসে বন্দি ‘বাবা’

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : বাবা বাবা বাবা। কেউবা ডাকেন আব্বা, আব্বু। তবে শহুরে সমাজে সেটায় রয়েছে ভিন্নতা। তারা বাবা, আব্বা, আব্বুর বদলে ডেডি, ডেড কিংবা পাপাসহ আরো কোনো রঙচঙ মাখা নামেই ডাকতে অভ্যস্ত। আজ ১৬ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। ব্যক্তিগতভাবে আমার মাথায় ধরে না, এসব মধুর সম্পর্কগুলোকে কেন নির্দিষ্ট কোনো দিবসের জন্য বাক্সবন্দি করতে হবে? পশ্চিমাদের কথা না হয় আলাদা। সেসব দেশে কে কাকে জন্মদানে সহযোগিতা করে থাকে, সেটা তারা নিজেরাও ঠিকমতো জানে না। তাই তারা বাবা নামক ব্যক্তিটাকে নির্দিষ্ট একটা দিনের জন্য সারাবছর তুলে রাখে। সেই দিনটিতে সাজসাজ রবে ঘটা করে পালন করে ‘বাবা দিবস’। দিন শেষে যে যার মতো। কিন্তু আমাদের মুসলিমদের মধ্যে কেন এরকম নির্দয় দিবসের সূচনা হলো।
‘বাবা’ শব্দটির মাঝে রয়েছে গভীর মমতা, রয়েছে আন্তরিকতা, কোমলতা, স্নেহ, ভালোবাসা। বাবার মাঝেই রয়েছে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভীত। একজন আদর্শ বাবাই তার সন্তানের প্রথম পাঠশালা। সন্তান যত বড়োই হোক না কেনো। বাবার কাছে সে সেই ছোট্ট খোকাই। তাইত আজো এই দেশে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে, বাবাদের গুরুত্ব অপরিসীম।
আমার আব্বা, আমাকে এখনো তার পরম মমতায় তদারকি করেন। আমার ৪৩ বছর বয়সেও,আমি এখনো বাবার পরম স্নেহ সান্নিধ্যেই রয়েছি। জম্মের পর হতেই আমি আমার বাবাকে নানান ঝামেলায় ফেলি। কিন্তু আজঅব্দি তিনি সব কিছুই আমার বাবা হবার কারণে, ভালোবাসায় মমতায় হাসিমুখে মেনে নিচ্ছেন। আমি আমার আব্বাকে নিয়ে গর্বিত।
অথচ বিয়ের পর শ্বশুর নামক যে ব্যক্তিটিকে আব্বু ডেকেছি, সে এখন আমার ধ্বংস কামনায় লিপ্ত। তাই বাবা, আব্বা আর আব্বু, ডেডি নামে ডাকার মাঝে বিস্তার ব্যবধান রয়েছে।
ইসলাম ধর্মেও সন্তানের প্রতি বাবাদের বিশেষ ভূমিকা পালনের তাগিদ দেয়া রয়েছে। অথচ আজ সমাজে কি ঘটছে। আব্বাকে রেখে আব্বু নিয়ে ব্যস্ত সবাই। স্ত্রীর জন্য বাবাকে রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে। এসবের মূলে রয়েছে পশ্চিমাদের সংস্কৃতির লালন। এসব হতে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। বাবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন নয়, প্রতিটি দিন বাবা দিবস- এমন দায়িত্বশীল মানসিকতা পোষণ করতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো দিবসের জন্য বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ বাক্সবন্দি করা চলবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *