নওগাঁর মুনিরা আখতার রুমা কেক বিক্রি করে সফল উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা বার্তাঃ-

একসময় দেখলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করছে, তখন মুনিরা আখতার রুমা ভাবলেন ‘আমিওতো ইচ্ছে করলে পারি কাজ করতে, উদ্যোক্তা হতে। মাথায় এলো বেকিং কেক ও বিভিন্ন হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করার আইডিয়া। স্বামী, সন্তানদের সাথে পরামর্শ করলেন, তারাও সাপোর্ট দিলো।

যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করলেন সব আইটেমের হোমমেইড কাস্টমাইজ কেক, থীমকেক ও বিভিন্ন ধরনের হোমমেড খাবার তৈরির কাজ। প্রথম দিকে যদিও এটা শখের বসে করতেন পরে এটাকে পেশা হিসাবে নিলেন। তিনি চেষ্টা করেন কাস্টমারের চাহিদা মতো ডিজাইন ও ফ্লেভার দিতে। বেস্ট কোয়ালিটি সম্পন্ন ফ্রেশ কেক সরবরাহ করার জন্যই তার রিপিট কাস্টমারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বেশ ভালো সাড়াও পাচ্ছেন। উদ্যোক্তা হওয়ার বছর খানেক আগে তিনি প্রফেশনাল বেকার্সদের কাছে কয়েকটি বেকিং কেকের কোর্স করেন। বর্তমানেও কিছু কোর্স করছেন।

মাত্র অল্প পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করেন উদ্যোক্তা মুনিরা আখতার রুমা তিনি মূলত সব ধরনের কাস্টমাইজ কেক, থিমকেক ও হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করছেন। তার সিগনেচার আইটেম কাস্টমাইজ কেক, আর এই কেকই তাকে একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং তৈরি করে দিচ্ছে। কেক নিয়ে সামনে বহুদূর এগিয়ে যেতে চান উদ্যোক্তা মুনিরা আখতার রুমা।

অনলাইনে ‘ Ruma`s Kitchen এবং C For Cake নওগাঁ জেলা সহ সমগ্র নওগাঁ জেলার মধ্যে তিনি পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। মাসে ৫০/৬০টার মতো কেক তৈরি করেন। অকেশন অনুযায়ী বিক্রির তারতম্য হয়। মাসে কমবেশি প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো পণ্য বিক্রি করেন উদ্যোক্তা মুনিরা আখতার রুমা

নিজের কাজ সম্পর্কে উদ্যোক্তা মুনিরা আখতার রুমা বলেন
১০ বছর ধরে অফলাইনে হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করছি। ‘করোনাকালীন সময়ে মানুষের জীবন যাপন যখন প্রায় অচল হবার অবস্থা, ঠিক তখনি আমার মাথায় আসল
আমার খাবারগুলো নিয়ে আমার ফেসবুক পেজ পোস্ট করি। আমি যেহেতু বেকিং কেকের কাজটা ভালো যানি তাহলে তো আমি আমার পণ্য দিয়ে কিছুটা হলেও মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারবো। ফ্রেশ, নির্ভেজাল, কোয়ালিটি সম্পন্ন কেক যদি কাস্টমারের দরজা পৌঁছে দেই, কিছুটা হলেও মানুষের প্রয়োজন মিটবে। ডিজিটাল যুগে প্রায় বেশিরভাগ মানুষই কিছু করুক না করুক একটা কেক কেটে তাদের জন্মদিন সেলিব্রেট করে বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চারা এটাতে বেশি খুশি হয়, আর বাচ্চাদের এই খুশিটুকু দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। এই জন্যই কেক নিয়ে উদ্যোগতা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার এই পণ্যেটা একটা সেলিব্রেটি আইটেম, কাস্টমাররা এই পণ্যেটা নিয়ে সেলিব্রেট করে আনন্দ পায়, তাই এই পণ্য নিয়ে কাজ করি এবং আমিও আনন্দ পাই। আমি আমার সৃজনশীল মেধা দিয়ে কেকের ওপর বিভিন্ন ডিজাইন করে থাকি। তাই এই কাজে আমি তৃপ্ত। কাস্টমারদের এইভাবেই সেবা দিয়ে যাবো’।
আমি দেশের বিভিন্ন রান্নার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি।
নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করছি।
আমার সফল হওয়ার পিছনে স্বামী ও দুই মেয়ে সহ পরিবারের সকল সদস্যরা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছেন জন্য আজকে আমি সফল হয়েছি।কেক তৈরি তাছাড়াও তিনি একজন বেকিং ট্রেইনার, প্রতি সপ্তাহে বেশকিছু স্টুডেন্টকে নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে বেকিং কেকের ক্লাস করানোর ইচ্ছে আছে।
ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে কুকিং এন্ড বেকিং স্কুল চালু করবো।
বেকার ও অসহায় নারীদের ট্রেনিং এর মধ্যে দিয়ে আত্ননির্ভর করে তুলতে কাজ করবো ইনশা আল্লাহ।
আমার জন্য দোয়া করবেন।

Check Also

বাঁশকাটা কে কেন্দ্র করে চাচা চাচি কে নির্মমভাবে যখম করছে ভাতিজা।

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার আপন চাচা চাচিকে নির্মম ভাবে যখম করছে ভাতিজা। এস,এম মোস্তাকিম নওগাঁ …

ক্যান্সার,কিডনি,লিভার সিরোসিস,স্ট্রোক প্যারালাইজড,থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান

বদলগাছী, উপজেলা প্রতিনিধি, বদলগাছী উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় বদলগাছী কর্তৃক আয়োজিত ক্যান্সার,কিডনি,লিভার সিরোসিস,স্ট্রোক প্যারালাইজড,থ্যালাসেমিয়া রোগীদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *