নুসরাত হত্যায় ১৬ জনের সম্পৃক্ততা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদসহ ১৬ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেখিয়ে চূড়ান্ত চার্জশিট করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আগামীকাল বুধবার এই চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ সোমবার সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার নুসরাত হত্যার ঘটনার পুরো বিষয়বস্তু তুলে ধরেন তিনি।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নুসরাতকে আগুন দিয়ে হত্যার দিন মাদ্রাসার উপরে আগে থেকেই বোরকা নিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে এই তিন ছেলে বোরকা পরে। এ সময় তারা একে অপরকে বোরকা ও মোজা পরতে সহযোগিতা করে। এটি তৃতীয় তলায় প্রিন্সিপালের রুমের সামনে ঘটে।

তিনি বলেন, নুসরাতকে যখন ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় তখন মনি কিন্তু নিচে ছিল। ছাদে নিয়ে তাকে প্রেসার দেয়া হয় এখানে স্বাক্ষর করো এবং মামলা তুলে নাও। এ সময় তারা একটি সাদা কাগজ বের করে। কিন্তু সে কাগজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেটা তারা পুড়িয়েও দিতে পারেন বলে জানান তিনি।

পিবিআইয়ের ডিআইজি বলেন, কিলিং মিশনে অংশ নেয়ার পর শম্পা এবং মনি সেখান থেকে বের হয়ে আস্তে আস্তে হলে ঢুকে পরীক্ষায় বসেন। এখানে আরেকজন পরীক্ষার্থী ছিল, তার নাম জাভেদ। সেও পাশ দিয়ে নেমে পরীক্ষার হলে যায়। তখন সে তার বোরকা শাহাদাত হোসেন শামীমের কাছে দিয়ে যায়। এতে শামীমের বোরকা হয় দুটি।

ঘটনার পর শামীম মূল গেট দিয়ে বের না হয়ে বাথরুমের পাশ দিয়ে গিয়ে হোস্টেলের পুকুরে বোরকা দুটো ফেলে পেছনে অনেক বাড়ি আছে সেগুলোর মধ্যে ঢুকে যায় বলে জানান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি আরও বলেন, আরেকজন হলেন জুবাইর। সে অত্যন্ত সাহসী, আবার পরীক্ষার্থী না। মিশনের পর জুবাইর বোরকা পরে ঘুরে মেইন গেটে আসে। একজন মেয়ে হিসেবে সে মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর মূল গেটের সামনে একটি ব্যাংক আছে তার সিঁড়িতে উঠে সে তার বোরকা ও মোজা খুলে একটি পলিথিনে ঢুকায়। তারপর আবার সে ওই সিঁড়ি দিয়ে নেমে আড়াইশ গজ দূরে গিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে।

এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ও আশেপাশের লোকজন নুসরাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে জানান বনজ কুমার মজুমদার।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। বোরকা পরিহিত কয়েকজন কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *