সদ্যপ্রাপ্ত

বনায়ন প্রকল্পের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

গাজী মো. গিয়াস উদ্দিন বশির, ঝালকাঠি থেকে: নলছিটি উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গাছ কাটিয়ে ট্রলারে সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঝালকাঠি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন সেক্টর প্রকল্পের অধীনে ২০০১-০২ অর্থবছরে নলছিটি মগড় ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজার হয়ে খাওখীর মিল ঘড় পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প করা হয়। এ সময় রেইনট্রি, মেহগনি, কড়ই, শিশু, আকাসমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ হাজার গাছ লাগানো হয়। মগড় ইউনিয়ন পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি এই বনায়নে যুক্ত ছিল।

সমিতির সভাপতি আলমগির হোসেন খান জানান, তাদের নারী সদস্যসহ ৪০ জন সদস্য রয়েছে যারা ওই সামাজিক বনায়নের বড় অংশের (৭০ শতাংশ) মালিক। আমার কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হান্নান হাওলাদার তার কাছে সকল কাগজপত্র আছে। আমি তাকে অবহিত করেছি। এই সামাজিক বনায়ন প্রকল্প হওয়ার সময় এলজিইডি থেকে আমাদের ট্রেনিং দেওয়া থেকে গাছের পহাড়া দেওয়ার জন্য মাসে মাসে টাকাও দিয়েছে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য গত ২২ ও ২৩ জানুয়ারি দুইদিনে ছোট-বড় ৫ শতাধিক গাছ বিক্রি করেছে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মো. আফাংউদ্দিনের কাছে। ওই ব্যবসায়ী ১০-১৫ জন শ্রমিক দিয়ে গাছগুলো কেটে ট্রলারে নিয়ে গেছে বলে সমিতির সভাপতি আলমগির হোসেন খান জানান ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাছ ব্যবসায়ী আফাংউদ্দিন বলেন, এই গাছগুলো এলাকার কবির হোসেন, মিজান শরিফসহ কয়েক জনের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। তাদের জমিতে বলে তারা বিক্রি করেছে। কয়টি গাছ ক্রয় করেছেন ও কত টাকায় জানতে চাইলে তিনি চুপ থাকেন।

গাছ ব্যবসায়ীর তথ্য মতে এলাকার কবির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ঢাকায় থাকি। আমরা সরকারি গাছ বিক্রি করব কেন। আমি একটু বাড়িতে ফোন করে জেনে নেই। তিনি জানান, এই বনায়নের গাছগুলো ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক শাহিন ও ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলু মিলে বিক্রি করেছে। খাওখীর গ্রামের রাসেল, আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, গত কয়েক দিনে নির্বিচারে গাছ কেটে নিচ্ছে শ্রমিকেরা। এরপর শ্রীরামপুর খালে ট্রলার ভিড়িয়ে গাছগুলো অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মগর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক শাহিন বলেন, ভাই ২/৩ টা গাছ কেটেছে এলাকার লোকজন। কিন্তু এ গাছের দাবি করছে মগড় ইউনিয়ন পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। তাদের আজ (২৪ জানুয়ারি) ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বলেছি। এই সামান্য বিষয় নিয়ে সকাল থেকে আমাকে জবাব দিতে দিতে কাহিল হয়ে পড়েছি। আমি এ গাছ কেটেছি- কথাটি সঠিক নয়। গাছগুলো কেটে দ্রুত ট্রলারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসি গাছ কাটলে ট্রলারে নিবে কেন জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন আজ সুরাহা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *