‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধর্ষকসহ নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক : ময়মনসিংহ ও হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। রোববার গভীর রাতে পৃথক এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় প্রেমিকাকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। উপজেলার কালাদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল ইসলাম (২০) উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাতে ধর্ষণ মামলার আসামিরা উপজেলার কালাদহ ঈদগাঁ মাঠের সামনে অবস্থান করছে- এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে।

এক পর্যায়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে একটি পাইপগানসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গুলিবিদ্ধ জহিরুলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, তিন মাস আগে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে একই উপজেলার পলাশতলী গ্রামের এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৩ আগস্ট বিকেলে মেয়েটিকে বেড়ানোর কথা বলে উপজেলার কুটিরা গ্রামে নিয়ে যায় প্রেমিক জহিরুল। সেখানে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে তার দুই বন্ধু সাইদুল ও ফারুকের হাতে তুলে দেয় মেয়েটিকে। তারাও মেয়েটিকে একটি আখখেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জহিরুল ও তার বন্ধুরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর কিশোরীর জ্ঞান ফিরলে সেখান থেকে এসে বিষয়টি স্থানীয়দের জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পরদিন নির্যাতিতা কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে প্রেমিক জহিরুলসহ তিনজনকে আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় ধর্ষণ মামলা করে।

এদিকে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জনি মিয়া (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিহত জনি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশেল সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সোলেমান মিয়া (৩০) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ৩টার দিকে উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের ডেওয়াতলী কালিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোলেমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া এলাকার বাসিন্দা।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত ৩টার দিকে একদল ডাকাত ডেওয়াতলী কালিনগর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতরা তাদের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে সোলেমান গুরুতর আহত হয়। এ সময় তার অন্য সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে সোলেমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *