বিশেষ প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার সম্মতি

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কারাগার থেকে জীবন্ত অবস্থায় বের হতে ইমার্জেন্সিচিকিৎসা ও মুক্তি চান তিনি। পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তার মুক্তির জন্য তাই করা হবে বিশেষ আবেদন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। আজ অথবা আগামীকাল রোববার আবেদনটি জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে পৌঁছানো হবে। আর এ প্রক্রিয়ায় পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

এছাড়া সকল প্রক্রিয়ায় রয়েছেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ আবেদন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে সরাসরি বলেছেন, ‘আমরা তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করতে চাই। এ ব্যাপারে তিনিও দ্বিমত করবেন না। কারণ, তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।’

গত মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জািয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতে বোন সেলিমা রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়া বিশেষ আবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

তিনি আইনজীবীদের ভাষ্য দিয়ে সেলিমা রহমানের কাছে জানতে চেয়েছেন, সাজা মওকুফের বিশেষ আবেদন করলেই যে সরকার তা রাখবে, সে নিশ্চয়তা কোথায়? খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের এও বলেছেন, সাজা মওকুফের বিশেষ আবেদন আর প্যারোলে মুক্তির আবেদনের মধ্যে নীতিগত তেমন পার্থক্যও নেই। তবে আবেদনের বিষয়টি খালেদা জিয়া নাকচ করেননি।

সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার বিছানা থেকে বাথরুমের দূরত্ব দুই-তিন হাত হবে; তা যেতেই ২০ মিনিট সময় লাগে তার। এখানে যে চিকিৎসা হচ্ছে তাতে তার শারীরিক কোনো উন্নতি হচ্ছে না। তিনি উঠে দাঁড়াতে পারেন না। হাঁটতেও পারেন না। একটু হাঁটলে আবার তাকে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের কাছে আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে দু’বছর সাজা ভোগ করেছেন। এছাড়া তিনি বয়স্ক নারী, গুরুতর অসুস্থ, সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর এসব দিকগুলো বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে রাষ্ট্র ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এছাড়া গত মাসের ১৪ তারিখে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদন করা হলে সরকার বিবেচনা করবে। এরপর থেকেই এ বিষয়টি ফের নতুনভাবে সামনে আসে।

জানা যায়, ২০১৯ সালের এপ্রিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কেবিনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বরচন্দ্র রায় সাক্ষাৎ করেন।

তখন মূল অ্যাজেন্ডাই ছিলো নেত্রী প্যারোলে আবেদন করবেন কি-না। কারণ আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম। তখন তিন নেতার মধ্যেই পক্ষ-বিপক্ষে মতামত আসায় বিশেষ আবেদনের বিষয় খালেদা জিয়া নাকচ করে দেন।

এরপর থেকে দলটির শীর্ষ নেতারাও পক্ষে-বিপক্ষে সভা-সেমিনারে নেতিবাচক বক্তব্য দেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি জন্য স্বেচ্ছায় কারাবরণসহ বড় কর্মসূচি চাইলেও দলটির নীতি নির্ধারকরা ভবিষ্যৎ ক্ষমতার চিন্তায় ও আন্দোলন ব্যর্থতার ভয়ে কোনো কর্মসূচি দেননি।

এখন খালেদা জিয়াকে জীবন্ত অবস্থায় পেতে তৃণমূলের বড় অংশের চাপ থাকায় পুরনো পথেই বিএনপিকে হাঁটতে হচ্ছে। ৭৪ বছর বয়সি খালেদা জিয়া এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা, এমনকি খেতেও পারেন না। জীবন সংকটের আশঙ্কা করছে পরিবার। জীবন্ত অবস্থায় খালেদা জিয়াকে আর না পাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন আসেনি বলে গতকাল জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোন করেছিলেন।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে গতকালও কথা বলে জানতে পেরেছি, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আবেদন আসেনি। খালেদা জিয়ার পরিবারের লোকজন ও দলের লোকেরা বিচ্ছিন্নভাবে তার মুক্তির বিষয়ে কথা বলছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের আবেদনটা জানাতে বলেছেন, মৌখিকভাবে। আমি সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি- আমি এটুকু বলতে পারি। এ ছাড়া কোনো লেনদেন বা কথাবার্তা হয়নি। কাল টকশোতে শুনলাম, তলে তলে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে, আমার মনে হয় বাস্তবে বিষয়টা তেমন কিছু নয়।’

খালেদা জিয়ার দল কিংবা পরিবার যদি আবেদন করেন তবে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে; জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘যদিটা পরে দেখা যাবে।’ আমাদের বক্তব্য হচ্ছে— প্যারোলের আবেদনের সঙ্গে বিষয়টির মিল আছে কি-না, এটা খতিয়ে দেখা।

তাদের আবেদন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার জন্য যৌক্তিক কি-না, এ বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে। ‘যেহেতু খালেদা জিয়াকে আদালত দোষী ঘোষণা করেছে, কাজেই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টটা আদালতের কাছেই যেতে হবে।’

Check Also

খালেদা জিয়া ‘ফিরোজায়’

স্টাফ রিপোর্টার: কারামুক্ত খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ পৌঁছেছেন। ২৫ মাসেরও বেশি সময় পর …

এবারো জামিন পেলেন না খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন ফের খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *