মার্চ থেকে প্রাথমিক-মাধ্যমিকে যেসব পরিবর্তন আসছে

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী মার্চ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে বিষয়ভিত্তিক ছাড়াও বেশকিছু পরিবর্তন আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মার্চের মধ্যেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের দশটি বিষয়ের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এরমধ্যে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক পার্ট-২, প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিক স্তরের ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলামের বই (শিক্ষাক্রম বা পাঠ্যবিষয়) পাঠলাভ করবে শিক্ষার্থীরা।

নতুন পাঠ্যক্রমে প্রাক-প্রাথমিক স্তরকে শিক্ষার প্রস্তুতি, প্রাথমিক স্তরকে ভিত্তি, মাধ্যমিক স্তরকে সামাজিকীকরণ, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে বিশেষায়নের জন্য প্রস্তুতি এবং উচ্চ শিক্ষাকে বিশেষায়ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ১০টি বিষয়কে ‘শিখনক্ষেত্র’ নাম দিয়েছে, এসব বিষয়ের ওপরই রচিত হবে নতুন পাঠ্যক্রম। তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রম রচিত হবে। বিষয়গুলো হলো- উদ্ভাবনী, পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন এবং জবাবদিহিতা।

২০২২ সাল থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে বাংলা (ভাষা ও যোগাযোগ), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), গণিত (গণিত ও যুক্তি), বিজ্ঞান (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), সামাজিক বিজ্ঞান (সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব), জীবন ও জীবিকা, পরিবেশ ও জলবায়ু, ধর্ম (মূল্যবোধ ও নৈতিকতা), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সুরক্ষা (শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য) এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বই। বর্তমানে ওইসব শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়তে হয়।

২০২৩ সাল থেকে নবম শ্রেণি থেকে বিভাগ উঠে যাচ্ছে, ২০২৪ সালে মাধ্যমিক স্তরেও বিভাগ থাকবে না। একাদশ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীরা বিভাগ নির্বাচন করবে।

জানা গেছে, দশজন শিক্ষাবিদের মতামতের আলোকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চূড়ান্ত করে এনসিটিবি। এসব বিষয় সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. মশিউজ্জামান।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করছেন। আশা করছি, আগামী মার্চের মধ্যেই ১০টি বিষয়ের ‘বিষয়ভিত্তিক’ শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

মশিউজ্জামান বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষেই (২০২১) প্রাক-প্রাথমিকের প্রথমবর্ষের শিশুরা নতুন কারিকুলামের বই পাচ্ছে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষে শিশুরা প্রাক-প্রাথমিকের দ্বিতীয় বর্ষের নতুন কারিকুলামের বই পাবে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও নতুন কারিকুলামের বই পাবে। অন্য শ্রেণির শিক্ষাক্রম পরবর্তীতে পরিবর্তন হবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষায় একই ধারায় ১০টি শিখনক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। দশ শিখনক্ষেত্রকে ধারণ করেই নতুন পাঠ্যক্রমের পাঠ্যবই প্রকাশ করা হবে। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে, তেমনি পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন ও আকর্ষণীয় হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে সবক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে পারে সেজন্য স্তরভিত্তিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্তরভেদে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্ব কম বা বেশি দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *