মিয়ানমারে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন: একদিনে নিহত ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রক্তাক্ত মিয়ানমার। রক্তের স্রোতে রাজপথ রঞ্জিত। মানুষের তাজা রক্তে ভেসে গেছে রাজপথ। গতকাল বুধবার কমপক্ষে ৩৮ জন সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সামারিক জান্তা। দিনটিকে জাতিসংঘ ‘ব্লাডিয়েস্ট ডে’ বা সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টিন শ্রানার বার্জেনার বলেছেন, দেশটির চারদিক থেকে হতাশাজনক ফুটেজ আসছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বুধবার বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট ও গুলি চালিয়েছে জান্তা সরকার।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আবারো বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আগামীকাল এ বৈঠক আহ্বান করে যুক্তরাজ্য। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।

জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুন ও নেপিদোসহ মিয়ানমারের বেশির ভাগ শহরে বিক্ষোভ হয়। সবখানেই মারমুখী অবস্থানে ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। মধ্যাঞ্চলীয় শহর মনওয়ায় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন।

ইয়াঙ্গুনে গুলিতে মারা গেছেন দুজন। মান্দালয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আরো দুজনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় শহর মিংগিয়ানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরেক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে ছাত্রনেতা মোয়ে মিন্ট হেইন গণমাধ্যমকে জানান। সংঘর্ষে মিন্ট হেইন নিজেও আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, তারা আমাদের ওপর গুলি করেছে। একজন নিহত হয়েছেন, তার বয়স কম, একজন কিশোর, তার মাথায় গুলি লেগেছে।

এসব শহরের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলীয় চীন রাজ্য, উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শান, মধ্যাঞ্চলের সাগাইং ও দক্ষিণাঞ্চলের দাউই শহরেও প্রতিবাদ হয়েছে।

এছাড়া, রাতে আরো কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চীন রাজ্যের আন্দোলনকারী সালাই লিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, এ দেশের কেউই একনায়কতন্ত্র চান না, এটি তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।

বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাও জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার পর পুলিশ প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *